মোসাদ্দেক আসায় বাড়তি সুবিধা দেখেছেন মিরাজ

0
মোসাদ্দেক আসায় বাড়তি সুবিধা দেখেছেন মিরাজ

অধিনায়ক মিরাজ থাকায় মোসাদ্দেকের সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সেই সুযোগটি দেখেন না। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটে রান ফোয়ারা ছোটানো এবং উইকেটের বৃষ্টি নামানো মোসাদ্দেককে জাতীয় দলে মিরাজের সঙ্গেই দেখেন।

এজন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য তাকে স্কোয়াডে নেয়া হয়েছে। প্রায় চার বছর পর তিনি ফিরেছেন জাতীয় দলে। শুধুমাত্র ক্রিকেটে মনোযোগ থাকলে সাকিব আল হাসানের পর ব্যাটিং স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে সেরা পছন্দ হতে পারতেন মোসাদ্দেক। কিন্তু নিজের সব সামর্থ্য থাকার পরও পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে পারেননি। তবে ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ফেরায় খুশি মিরাজ। 

দলে একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজনীতা অনুভব করেন তিনি। মঙ্গলবার প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে আগে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেছেন, ‘সে যদি পারফর্ম করতে পারে, এটা আমার জন্য এবং দলের জন্য অনেক বিরাট সহায়তা হবে। দিন শেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে, দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় এবং আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী তাকে নিয়ে, যেভাবে সে ঘরোয়াতে ভালো পারফর্ম করেছে। যদি সুযোগ আসে, ভালো করবে।’ 

মোসাদ্দেককে কিভাবে ব্যবহার করা হবে সেই ধারণাও মিরাজ দিয়ে রাখলেন, ‘এরকম একটা অপশন যদি থাকে, আমাদের দলের জন্য অনেক সহায়তা হবে। আপনি যখন পাঁচটা বোলার নিয়ে খেলবেন, সঙ্গে বাড়তি বোলার থাকবে, তখন অনেক ভরসা থাকবে। একটা বোলারের খারাপ দিন যেতেই পারে। ব্যাকআপ হিসেবে বোলার থাকলে দলের ভারসাম্য খুব ভালো থাকে।’ 

পরীক্ষিত হওয়ায় তার উপর মিরাজের প্রত্যাশাও অনেক, ‘সে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ভালো বোলিং করেছে এবং সে পরীক্ষিত। আমার কাছে মনে হয়, সে ভালো জায়গায় বল করলে ভালো হবে এবং অধিনায়ক হিসেবে আবারও অনেক বিশ্বাস থাকবে, যদি সে ভালো করে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের ঢালা মেলেছেন মোসাদ্দেক। আবাহনীর হয়ে তিন মৌসুমেই রান ও উইকেটের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন। ব্যাট হাতে ১২৭৮ রান করার পাশাপাশি শিকার করেন ৫৮ উইকেট। এবার ৮ ম্যাচে ৭৭.৫০ গড় ও ১২৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৩১০ রান। বল হাতে নিয়েছেন ১২ উইকেট। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৩.৭৪ রান। এমন পারফরম্যান্সের পরও মোসাদ্দেক দিনের পর দিন উপেক্ষিত থাকার কারণ হিসেবে মিরাজের উপস্থিতি সামনে আসে বারবার। সেই প্রশ্নও উঠল মিরাজের কোর্টে। 

উত্তরে মিরাজ মনে করিয়ে দিলেন ইতিহাস, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেকদিন খেলেছি। ২০১৯ বিশ্বকাপেও আমরা খেলেছি একসঙ্গে। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি হলো বোলিং অলরাউন্ডার। দুজনের ভূমিকাটা আলাদা।’ 

পরিসংখ্যান মিরাজের পক্ষেই কথা বলছে। মোসাদ্দেকের ৪৩ ওয়ানডের ২৭টিতেই ছিলেন মিরাজ। সামনে নতুন পথচলায় সফর কেমন কাটে সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here