ট্রাম্পকে উপেক্ষা, ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে উত্তেজনা

0
ট্রাম্পকে উপেক্ষা, ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে উত্তেজনা

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা না চালানোর জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই আহ্বান উপেক্ষা করে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওরি গোল্ডবার্গের মতে, ইরানের হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নিতে ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায়’ রয়েছে। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পড়তে পারে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোল্ডবার্গ বলেন, তেহরানে হামলার আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছিল। সেই আলোচনায় বৈরুতের ওপর আরও বিমান হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। বিষয়টি প্রথমে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, পরে ট্রাম্প নিজেও তা নিশ্চিত করেন।

গোল্ডবার্গের ভাষ্য, জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নেতানিয়াহু যেসব পদক্ষেপ নিয়ে পার পেয়ে যেতেন, ট্রাম্পের আমলে সেগুলো আর সহজ হবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের জন্য পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। তার মতে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় ক্ষেত্রেই ইসরায়েল রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা তাদের সীমিত।

এর আগে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার মধ্যেই রবিবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর পরপরই নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ওই হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের বিশ্বাস ছিল, চুক্তির মাধ্যমে আমরা ভালো কিছু অর্জনের খুব কাছাকাছি রয়েছি।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করেন এবং ইরানে হামলার অনুমতি দিতে তাকে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের অনুরোধে ‘একপ্রকার সম্মতি’ জানিয়েছিলেন। সূত্র : আল জাজিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here