জাপানের একটি শহরে হঠাৎ ভল্লুকের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই শহরের আওতাধীন প্রায় ১০০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যার শহর উৎসুনোমিয়ায় প্রথম এই ভল্লুকটির দেখা মেলে। গত শনিবার একটি পার্কের কাছে প্রায় এক মিটার লম্বা এশীয় কালো ভল্লুকটি দেখা যাওয়ার পরপরই সতর্ক অবস্থানে যায় প্রশাসন।
পরদিন রবিবার ভোরে শহরের কেন্দ্রস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ভল্লুকটির উপস্থিতি। ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত দুই তরুণের সামনে দিয়ে দ্রুত দৌড়ে যাচ্ছে প্রাণীটি।
এরপর দিনভর শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ভল্লুকটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সর্বশেষ সোমবার ভোর ৪টার দিকে শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের একটি শিল্প এলাকায় এটিকে দেখা গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বাসিন্দাদের ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভল্লুক সামনে পড়লে কাছে না গিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে।
ভল্লুকটিকে ধরতে পুলিশ এবং স্থানীয় শিকারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এদিকে চলতি বছর জাপানে প্রায় ৫০ হাজারবার ভল্লুক দেখার খবর পাওয়া গেছে, যা রেকর্ড। যদিও সাধারণত টোকিওর এত কাছাকাছি এলাকায় ভল্লুক দেখা যায় না।
সাম্প্রতিক সময়ে ফুকুশিমা অঞ্চলে এক ভল্লুক চারজনকে আক্রমণ করে এবং একটি অফিসে ঢুকে একজনকে আহত করার ঘটনাও ঘটেছে। পরে সেটি একটি কারখানায় ঢুকে সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যের সংকট এবং গ্রামীণ এলাকায় জনসংখ্যা কমে যাওয়াই ভল্লুকের লোকালয়ে চলে আসার প্রধান কারণ। বুনো ফলের উৎপাদন কম হলে খাবারের খোঁজে তারা শহরের দিকে চলে আসে।
এছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় সেসব এলাকা তুলনামূলক নির্জন হয়ে পড়ছে, যা বন্যপ্রাণীর জন্য সহজ প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জাপানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সিসিটিভি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভল্লুকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান

