অধিনায়ক হিসেবে টানা দুইবার আইপিএল শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন রজত পাতিদার। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মার মতো সফল অধিনায়কদের পাশে নিজের নাম যুক্ত করেছেন। তবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে চ্যাম্পিয়ন করার পরও ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ না পাওয়ায় ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং আসন্ন এশিয়ান গেমসের জন্য ঘোষিত ভারতীয় দলে রজত পাতিদারের নাম না থাকায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় আসে। দল ঘোষণার পর এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগারকর।
শনিবার বিসিসিআই টি-টোয়েন্টি দলের স্কোয়াড ঘোষণা করে। দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হলেও জায়গা হয়নি রজত পাতিদারের। অথচ আইপিএলের ২০২৫ ও ২০২৬ মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অজিত আগারকর বলেন, নির্বাচকদের আলোচনায় অনেক ক্রিকেটারের নাম ছিল। কিন্তু সীমিত জায়গার কারণে সবাইকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর মতে, ভারতে প্রতিভাবান ক্রিকেটারের সংখ্যা এত বেশি যে অনেক যোগ্য খেলোয়াড়কেও অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে যারা দলে রয়েছেন, তারাও ভালো পারফরম্যান্স করছেন।
আগারকরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নির্বাচকদের বিবেচনায় থাকলেও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাননি রজত পতিদার।
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন তিনি। ১৫ ম্যাচে ৫০১ রান করেন রজত। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯২.৬৯ এবং সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল অপরাজিত ১১২ রান। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৩০টি চার ও ৪২টি ছক্কা হাঁকিয়ে মিডল অর্ডারের অন্যতম ভয়ংকর ব্যাটারে পরিণত হন।
বিশেষ করে ইনিংসের মাঝের ও শেষ ভাগে তাঁর ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। ১২ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১৬.৬৭। আর শেষ চার ওভারে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৮.৫৭-এ।
তবুও চার ও পাঁচ নম্বর ব্যাটিং পজিশনের জন্য নির্বাচকেরা তিলক ভার্মা ও শিবম দুবের ওপর আস্থা রেখেছেন। পাশাপাশি নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। নেতৃত্বেও এসেছে পরিবর্তন; সূর্যকুমার যাদবের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করা হয়েছে শ্রেয়স আইয়ারকে।

