বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে স্বস্তির জয় পেয়েছে ব্রাজিল। ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে মিশরকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা। আর এই ম্যাচের নায়ক ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তরুণ স্ট্রাইকার অ্যান্ড্রিক। দলের জয়সূচক গোলটি করার পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তির উদ্দেশ্যে একটি শক্তিশালী ও আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন এই উদীয়মান তারকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মাত্র সাত মিনিটের মাথায় মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেসের চমৎকার এক গোলে লিড নেয় ব্রাজিল। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি মিশর। ম্যাচের ১১ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে সমতায় ফেরে তারা। প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
খেলার গতি পরিবর্তন করতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে অ্যান্ড্রিককে মাঠে নামান ব্রাজিলিয়ান কোচ। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে একদমই সময় নেননি এই তরুণ তুর্কি। মাঠে নামার ঠিক ছয় মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৫১ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর আলগা বল পেয়ে দুর্দান্ত এক শটে মিশরের জাল কাঁপান তিনি। অ্যান্ড্রিকের এই শিকারীসুলভ গোলের ওপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে স্পোর্টভি-কে অ্যান্ড্রিক বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ইনজুরির কারণে যখন জাতীয় দলের বাইরে ছিলাম, সেটি ছিল একজন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি আবার জাতীয় দলে ফিরে জয়সূচক গোল করতে পেরেছি। আমি সবসময় দেশের জন্য নিজের জীবন উজাড় করে দিতে চাই। এই গোলটি আমি আমার স্ত্রী এবং আমাদের অনাগত সন্তানের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।
রিয়াল মাদ্রিদের তারকাঠাসা স্কোয়াডে শুরুতে জায়গা না পেয়ে নিজের চেনা ছন্দ ফিরে পেতে ধারে অলিম্পিক লিওঁতে যোগ দিয়েছিলেন অ্যান্ড্রিক। ফরাসি ক্লাবটির হয়ে ২১ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৭টি অ্যাসিস্ট করে তিনি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর মূল মঞ্চে আলো ছড়াতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। এই প্রসঙ্গে অ্যান্ড্রিক যোগ করেন, রিয়াল মাদ্রিদে পর্যাপ্ত সময় না পেলেও ঈশ্বর আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। লিওঁতে গিয়ে আমি খেলাটা উপভোগ করেছি এবং নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পেয়েছি। আর এখন আমি আমার স্বপ্নের বিশ্বকাপ থেকে মাত্র এক সপ্তাহ দূরে দাঁড়িয়ে আছি।
সূত্র: গোল ডটকম

