লাকসামে আলোচিত কিশোরী তাহমিনা আক্তার স্মৃতিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। তবে বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে অনীহা প্রকাশ করায় আদালতের নির্দেশে তাকে সেফ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুন নাহার লাইলী। এর আগে শুক্রবার ফেনীর ফুলগাজী এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তাহমিনা আক্তার স্মৃতি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের হারাখাল গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের অভিযোগ, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। এ ঘটনায় এর আগেও একটি মামলা দায়ের হয়েছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
স্মৃতির বাবা দাবি করেন, কয়েক মাস আগে তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয় এবং অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি কারামুক্ত হওয়ার পর মাসুদ ও তার সহযোগীরা গভীর রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে এবং স্মৃতিকে জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় স্মৃতি দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় মাসুদের সঙ্গে গেছেন এবং নিজের ইচ্ছাতেই তার সঙ্গে অবস্থান করছেন।
পরে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্মৃতিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। আদালতে শুনানিকালে কিশোরীর শ্বশুর তাকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে কিশোরী বাবা-মায়ের কাছে যেতে রাজি হয়নি। এ ছাড়া তার বাবা-মাও জিম্মা চেয়ে কোনো আবেদন করেননি।
আদালতে কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণের মতো প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করা না হওয়ায় বিচারক তাকে সেফ কাস্টডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তদন্ত করা হচ্ছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

