ফেভারিটদের তালিকায় থেকেও কেন মহাবিপদে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স?!

0
ফেভারিটদের তালিকায় থেকেও কেন মহাবিপদে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স?!

কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। উত্তর আমেরিকার তিন স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডার মাটিতে পা রাখতে শুরু করেছে বিশ্বসেরা ৪৮টি দল। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, সমীকরণ আর তর্কের ঝড়। কার ঘরে যাবে সোনালী ট্রফি, আর কোন পরাশক্তি এবার ডোবাবে তা নিয়ে খোদ বিশ্বখ্যাত ফুটবল পণ্ডিতদের মাঝেই চলছে তুমুল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। ফুটবল বিশ্লেষক ম্যাটেও বোনেত্তি, লুইস মিগুয়েল এচেগারে এবং ব্রায়ান সিয়ারেত্তার এক বিশেষ আড্ডায় উঠে এসেছে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে কড়া কিছু ভবিষ্যদ্বাণী।

মেসি-রোনালদোর ‘লাস্ট ড্যান্স’ নাকি নতুন রূপকথা?

বিশ্লেষকদের মতে, এবার দল বাড়লেও স্পটলাইট থাকবে সেই দুই বুড়ো হাড়ের ভেল্কিতেই। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে কতটা আগুন ছড়াতে পারেন, তা দেখতেই চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে কোটি ফুটবল ভক্ত। তবে লুইস মিগুয়েল একটু ভিন্ন স্বাদ খুঁজছেন। তাঁর মতে, এবার টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ায় হাইতি, কেপ ভার্দে কিংবা স্কটল্যান্ডের মতো কোনো আন্ডারডগ বা ছোট দল যদি রূপকথা লিখে ফেলে, তবে অবাক হওয়ার কিচ্ছু থাকবে না।

আড়ালে থাকা যেসব দল গুঁড়িয়ে দিতে পারে পরাশক্তিদের 

এবার সবার আড়ালে থেকে যে দলটি সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তা হলো তুরস্ক। রিয়াল মাদ্রিদের আরদা গুলের আর ইন্টার মিলানের হাকান কালহানোগলুর মতো মাঝমাঠের কারিগরদের নিয়ে গড়া তুরস্ক যেকোনো বড় দলের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। বিশেষ করে ২৫ জুনের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নে জল ঢেলে দিতে পারে তারা। পাশাপাশি ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে কানাডা এবং ইউরোপিয়ান তারকা কাওরু মিতোমাকে ছাড়াই চরম ট্যাকটিক্যাল ফুটবল খেলা জাপান এবার অনেক দূর যাবে বলে বাজি ধরছেন বোদ্ধারা।

ভরাডুবির শঙ্কায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ফেভারিট ফ্রান্স!

এবারের আসরের সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন ফুটবল পণ্ডিত ব্রায়ান সিয়ারেত্তা। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার সমর্থকদের চরম হতাশ করতে পারে। নতুন রক্ত বা তরুণ ফুটবলারদের দলে জায়গা না দিয়ে পুরোনো ও বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ‘উইনিং কম্বিনেশন’-এর ওপর অতিরিক্ত ভরসা করায় কাতারজয়ীদের কপালে ২০১৪ সালের স্পেন কিংবা ২০১৮ সালের জার্মানির মতো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার গ্রুপ-ফাঁস চড়াও হতে পারে।

পিছিয়ে নেই ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডও। বিগত ৬০ বছর ধরে ট্রফিহীন ইংল্যান্ডের অহংকার আর আকাশচুম্বী প্রত্যাশাই তাদের ডুবাবে বলে মনে করেন বোনেত্তি। আর কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স এবার নরওয়ে ও সেনেগালের মতো দলগুলোর সাথে এমন এক ‘মৃত্যুকূপে’ পড়েছে, যেখান থেকে গ্রুপ পর্ব পার হওয়াই তাদের জন্য মহাবিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চাপের মুখে স্বাগতিক মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র

ঘরের মাঠে খেলা মানেই বুকভরা আত্মবিশ্বাস, আবার একই সাথে দমবন্ধ করা চাপ। বিশ্লেষকদের মতে, মেক্সিকোর ওপর এবার সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। যে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক মাঠে পেলে ও ম্যারাডোনা বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন, সেখানে বর্তমানের এই ছন্নছাড়া মেক্সিকো দল যদি অন্তত নকআউটের একটা ম্যাচও জিততে না পারে, তবে দেশের মাটিতেই তাদের গণধোলাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে, মাউরিসিও পচেত্তিনোকে কোচ বানিয়ে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালা যুক্তরাষ্ট্র যদি ঘরের মাঠে সহজ গ্রুপ পেয়েও সুবিধা করতে না পারে, তবে তা হবে চরম বিপর্যয়।

মদ্রিচের ম্যাজিক বনাম রোনালদোর হুঙ্কার

মেসি, রোনালদো নাকি মদ্রিচ— কার শেষটা রাঙানো হবে? বোনেত্তি ও সিয়ারেত্তা দুজনেই বাজি ধরেছেন রিয়াল ও এসি মিলানের কিংবদন্তি লুকা মদ্রিচের ওপর। বয়স ৪০ পার হলেও মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করার যে জাদুকরী ক্ষমতা তাঁর আছে, তাতে ক্রোয়েশিয়াকে তিনি আবারও রূপকথার গল্প উপহার দিতে পারেন। তবে এচেগারে মনে করেন, ট্রফি জয়ের তীব্র ক্ষুধা নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালই এবার শেষ হাসি হাসবে। এমনকি কোয়ার্টার ফাইনালে মেসি বনাম রোনালদোর এক ঐতিহাসিক ব্লকবাস্টার মহারণও দেখতে পাওয়ার আভাস দিয়েছেন তিনি।

কার হাতে উঠছে গোল্ডেন বল? সবশেষে টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় উঠে এসেছে কয়েকটি নাম—

  • আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে): অবশেষে বিশ্বমঞ্চে জায়গা পাওয়া এই গোলমেশিন এবার গোল্ডেন বুট ও বল দুটোর জন্যই ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ক্লাবে তাঁর সময়টা যেমনই কাটুক, ফ্রান্সের জার্সিতে এমবাপ্পে বরাবরই অতিমানবীয়।

  • লুইস দিয়াজ (কলম্বিয়া): বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা কাঁপিয়ে আসা কলম্বিয়ান এই তারকা এবার টুর্নামেন্ট মাতাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

  • এছাড়াও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, চোট কাটিয়ে ফিরলে স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়রও কেড়ে নিতে পারেন সব আলো।

সূত্র: ফক্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here