জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী নজরুল উৎসবের আয়োজন করেছে ছায়ানট। কথন, গান, কবিতা ও নৃত্যের সমন্বয়ে সাজানো এই আয়োজন শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে শুরু হয়।
ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মেলক পরিবেশনায় ‘স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে’ গানটির মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী পর্বে কথন উপস্থাপন করেন ছায়ানটের সহ-সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল।
এরপর ‘সপ্তগীতির মালায় গাঁথা নজরুলের স্বদেশবার্তা’ শীর্ষক পরিবেশনায় কবির স্বদেশপ্রেম, সংগ্রামী চেতনা ও মানবমুক্তির বাণী বিভিন্ন আঙ্গিকে মঞ্চে উপস্থাপিত হয়। ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেপথ্য কণ্ঠে ধ্বনিত হয় নজরুলের জীবন ও সংগ্রামের নানা অধ্যায়। ডালিয়া আহমেদ ও আশরাফুল হাসান বাবু-র আবৃত্তিতে ‘১৯২১-এর ডিসেম্বর’, ‘বিদ্রোহী’, ‘মানুষ’ ও ‘নদী’ কবিতার অংশ নতুন মাত্রা পায়।
সংগীত পরিবেশন করেন শ্রাবন্তী ধর, প্রমিতা দেব এবং মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া। তাঁদের কণ্ঠে ‘ভায়ের দোরে ভাই কেঁদে যায়’, ‘নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ মম’ এবং ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল’ গানগুলো দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।
পরিবেশনার ধারাবাহিকতায় ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’, ‘জাগো অনশন বন্দী ওঠ রে যত’ এবং ‘সাম্যের কবি’সহ নজরুলের সাম্যবাদী ও বিপ্লবী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। খায়রুল আনাম শাকিল, ডালিয়া আহমেদ ও আশরাফুল হাসান বাবুর সম্মিলিত আবৃত্তিতে কবির কণ্ঠ যেন সময়ের সীমানা অতিক্রম করে নতুন করে প্রতিধ্বনিত হয়।
অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন ঐশ্বর্য সমাদ্দার, নন্দিতা দাশ দিশা, শরিফুর রহমান, শর্মিষ্ঠা দাশ, রুদ্র দাস, সুমন মজুমদার, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সী, ইয়াসমিন মুশতারী ও প্রিয়াংকা গোপ প্রমুখ। এছাড়া সরকারি সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মেলক পরিবেশনা মিলনায়তনে ভিন্নমাত্রার আবহ সৃষ্টি করে।
অগ্নিঝরা চেতনা, প্রেমের গভীর আবেগ ও মানবমুক্তির অমর আহ্বানে মুখর হয়ে ওঠে ছায়ানট মিলনায়তন। ‘ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে’ এবং ‘তোরা দেখে যা আমিনা’ গান দুটির দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজন। শনিবার একই মিলনায়তনে শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এই নজরুল উৎসব।

