লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার পৃথক তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে। স্থানীয় জনতা ও বিজিবির প্রতিরোধের মুখে এখনো কাউকে পুশইন করতে পারেনি বিএসএফ।
বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এর অধীন বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১১ জন (৩ পুরুষ ও ৮ নারী) এবং পয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১০ জনকে (৫ পুরুষ ও ৫ নারী) বাংলাদেশে পুশ ইনের চেস্টা করে ভারতীয় বাহিনী। খবর পেয়ে বিজিবি টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।
এদিকে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধীন আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৯২৫ ও ৯২৭/৭-এস এর নিকট ভারতীয় সীমান্তে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা মাইকিং করে সতর্ক করলে তারা ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় বিচরণ করতে থাকে।
বিজিবি জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির পরিচয় ও জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞাপ্তিতে জানায়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বিজিবি, সাথে রয়েছে সীমান্তবাসী, তাই এখন পর্যন্ত কোন ভারতীয়কে বাংলাদেশে পুশইন করতে পারেনি কেউ। বিএসএফের সব অপতৎপরতা রুখে দেবে বিজিবি।

