অস্ট্রেলিয়ার বর্জ্য পোড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করল ফিজি

0
অস্ট্রেলিয়ার বর্জ্য পোড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করল ফিজি

অস্ট্রেলিয়ার এক ধনকুবেরের প্রস্তাবিত বর্জ্য পোড়ানোর বড় প্রকল্প বাতিল করেছে ফিজি সরকার। স্থানীয় বাসিন্দা, ঐতিহ্যবাহী জমির মালিক এবং পর্যটন খাতের তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অঞ্চলজুড়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এমন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফিজিতে এনে পোড়ানো হতো। এজন্য একটি বিশাল ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ প্ল্যান্ট ও ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি বন্দর নির্মাণের কথা ছিল। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র নাদি শহরের কাছাকাছি, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এই স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।

তবে শুরু থেকেই স্থানীয়দের একাংশ এই পরিকল্পনাকে ‘বর্জ্য উপনিবেশবাদ’ বলে সমালোচনা করে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিজির রাষ্ট্রদূত ফিলিপো তারাকিনিকিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ভুদা উপকূলকে প্রশান্ত মহাসাগরের ছাইদানি বানানো যাবে না।’

ফিজির পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকল্পটির আকার, বিদেশি বর্জ্য আমদানি, বিপজ্জনক ছাই ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। এছাড়া পরিবেশগত প্রভাব, পর্যটন শিল্পের ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা সম্পর্কেও কোম্পানির দেওয়া তথ্য সন্তোষজনক ছিল না।

দেশটির পরিবেশ সচিব সিভেন্দ্র মাইকেল বলেন, এটি বিনিয়োগ বা নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নয়। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দ্য নেক্সট জেনারেশন হোল্ডিংস (টিএনজি)। অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী ইয়ান মালুফ ও ফ্যাশন উদ্যোক্তা রব ক্রম্ব দাবি করেছিলেন, এই প্রকল্প চালু হলে ফিজির বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে এবং ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।

তবে জমা দেওয়া পরিবেশগত প্রভাব প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের মোট কার্বন নিঃসরণ প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ইকো-ট্যুরিজমের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি আশপাশে থাকা হোটেল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, উদ্যোক্তা ইয়ান মালুফ এর আগে সিডনিতে একই ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন। তবে মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে ২০১৮ সালে সেটিও বাতিল করা হয়।

ফিজি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here