মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর দেশটির সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরানের কাছে এখনো বিপুলসংখ্যক ড্রোন রয়েছে। সস্তা প্রযুক্তির কারণে এই ড্রোন হুমকি মোকাবিলা করা বেশ কঠিন এবং এটি এখন বিশ্বজুড়ে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থিত হয়ে দেশটির শীর্ষ এই কূটনীতিক ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রুবিও বলেন, ড্রোনের অর্থনৈতিক দিকটি এমন একটি বিষয় যার স্থায়ী সমাধান আমাদের বের করতে হবে, তবে এত কিছুর পরও ইরানের ড্রোন তৈরির সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সুরক্ষতি রাখতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে যে ‘প্রচলিত প্রতিরক্ষাকবচ’ তৈরি করেছিল, মার্কিন সামরিক অভিযানে তা এখন অনেকটাই গুঁড়িয়ে গেছে। ইরানের নৌবাহিনীর বর্তমান দশা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দেশটির নৌবাহিনীর এখন যা অবশিষ্ট আছে তা মূলত মেশিনগান বসানো কিছু সাধারণ বোটের সমষ্টি মাত্র।
এর পাশাপাশি ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে রুবিও জানান, এই ব্লকেডের কারণে ইরান প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে, যা তাদের অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে।
সামগ্রিকভাবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা সম্ভব হলেও তাদের ড্রোনের মজুতকে এখনো মার্কিন প্রশাসন একটি বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছে।
সূত্র: সিএনএন

