রংপুরে লিচু চাষিদের ঘরে আসবে ৩০০ কোটি টাকা

0
রংপুরে লিচু চাষিদের ঘরে আসবে ৩০০ কোটি টাকা

এক সময় লিচু বলতে দিনাজপুরের লিচুকেই বোঝানো হতো। তবে গত কয়েক বছরে হাঁড়িভাঙা আমের পাশাপাশি লিচু উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন রংপুরের চাষিরা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে আসা লিচুর প্রায় ৯৫ শতাংশই রংপুরের উৎপাদিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিনাজপুরের লিচু এখনও পুরোপুরি বাজারে না আসায় রংপুরের লিচুর চাহিদা এখন তুঙ্গে। প্রতিদিন সকাল থেকেই নগরীর সিটি বাজার ও আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা লিচুর জমজমাট বেচাকেনা চলছে। প্রায় একশ ব্যবসায়ী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হাড়িয়া ও মাদ্রাজি জাতের লিচু।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮২৭ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন উৎপাদন হওয়ায় মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

রংপুরে উৎপাদিত প্রধান লিচুর জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হাড়িয়া, চায়না-২, চায়না-৩ এবং মাদ্রাজি। এর মধ্যে হাড়িয়া ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রংপুরে প্রতিবছর লিচুর উৎপাদন বাড়ছে। অনেক কৃষক এখন আমের বাগানের মতো লিচুর বাগান গড়ে তুলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।”

পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস মিয়া জানান, তারাগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচুর লিচু উৎপাদিত হচ্ছে। তারা সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনে পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন। বর্তমানে প্রতি হাজার লিচু আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, “দিনাজপুরের লিচু এখনও বাজারে আসেনি। তাই দিনাজপুরের লিচু বাজারে ওঠার আগ পর্যন্ত রংপুরের লিচুর বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে।”

বাংলা একাডেমির সহপরিচালক ও বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, “বাজারে টকটকে লাল রঙের লিচু কিনতে গিয়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। ভালো লিচু শুধু গাঢ় লাল হয় না, বরং লাল ও সবুজের মিশ্রণযুক্ত লিচু সাধারণত বেশি সুস্বাদু হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করে লিচুকে আকর্ষণীয় করা হয়। তাই কেনার আগে লিচুর রঙ ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।”

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও বায়োকেমিস্ট ডা. মোস্তারী বেগম মিতা বলেন, “লিচুর মৌসুমে শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। শিশুরা একা একা লিচু খেতে গিয়ে বিচি গলায় আটকে ফেলতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত লিচু খেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা খালি পেটে বেশি লিচু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে, যা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here