হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করলেও এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও প্রস্তাব ওয়াশিংটন কখনও বিবেচনা করেনি এবং আলোচনাতেও এমন কোনও বিষয় ওঠেনি।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুবিও বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি এবং ইরানকে এমন কোনও প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যেকোনও নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।
রুবিওর মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত অন্যান্য উদ্বেগের সন্তোষজনক সমাধান।
তিনি বলেন, “যেকোনও নিষেধাজ্ঞা-সুবিধা পুরোপুরি শর্তসাপেক্ষ হবে এবং তা পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালীটিতে যেকোনও উত্তেজনা বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির বিষয়ে নানা আলোচনা চললেও রুবিওর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, কেবল হরমুজ প্রণালী সচল রাখার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে আগ্রহী নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে দেখছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে হলে তেহরানকে পারমাণবিক ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

