ইরানে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগের সংবাদমাধ্যম মিজান।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুইজনকে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় মসজিদে অগ্নিসংযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির নাম মেহরদাদ মোহাম্মাদিনিয়া ও আশকান মালেকি। মিজানের দাবি, তেহরানের গিশা এলাকার জাফারি মসজিদে হামলার মূল অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন তারা। তবে এ ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি তাৎক্ষণিকভাবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় আস্থা ও বিশ্বাসের সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নীতি বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একের পর এক চুক্তি ভঙ্গ, চলমান আলোচনার মধ্যেই সামরিক হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাত ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কার্যত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে।
মরতাজাভি বলেন, আমি ইরানি সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে- আমরা প্রতিবার আলোচনায় যাই, কিন্তু আমাদের আঙুল ট্রিগারের ওপর থাকে। কেননা, আমরা আশঙ্কা করি যে, আকাশ থেকে বোমা নেমে আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পদক্ষেপ কার্যত যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনা, গত বছরের পারমাণবিক আলোচনার সময় চালানো হামলা এবং বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য। সূত্র: আল-জাজিরা, ডন

