দূরত্ব ছিল মাত্র দুইটি রানের। কিন্তু ইনিংসজুড়ে দারুণ খেলেও মাইলফলকের এত কাছে গিয়ে গড়বড় করে ফেললেন ডিন ফক্সক্রফট। সুইপ করার চেষ্টায় ব্যাটের কানায় লেগে ধরা পড়লেন তিনি শর্ট ফাইন লেগে। স্বপ্নের টেস্ট অভিষেক স্মরণীয় এক শতরানের রাঙাতে পারতেন তিনি। কিন্তু এই অলরাউন্ডারের নাম ঢুকে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত এক তালিকায়।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্ট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৯৮ রানে আউট হন ফক্সক্রফট। নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ত্রয়োদশ ক্রিকেটার হতে পারতেন তিনি। কিন্তু জায়গা পেলেন তিনি হৃদয় ভাঙার এক তালিকায়, যেখানে তার সঙ্গী আর মাত্র তিনজন কিউই।
টেস্ট অভিষেকে নব্বইয়ে কাটা পড়া চতুর্থ কিউই ক্রিকেটার ফক্সক্রফট। তার আগে সবশেষ এই অম্লমধুর স্বাদ পেয়েছিলে স্টিভেন ফ্লেমিং। টেস্ট অভিষেকেই সেই ১৯৯৪ সালে ভারতের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে ৯২ রানে আউট হয়েছিলেন সাবেক এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ফ্লেমিংয়ের আগে ১৯৭৬ সালে অভিষেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে ৯২ রানে আউট হয়েছিলেন রবার্ট অ্যান্ডারসন। এর ২১ বছর আগে লাহোরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৩ রানে আউট হয়েছিলেন নোয়েল হ্যাশফোর্ড।
সব দেশ মিলিয়ে অভিষেকে নব্বইয়ে আটকা পড়া ক্রিকেটার নেহায়েত কম নয়। অপরাজিত ও আউট হওয়া মিলিয়ে ফক্সক্রফটকে গিয়ে এই তালিকায় নাম আছে এখন ৭৮ জনের। তবে অভিষেকে সাত নম্বরে নেমে নব্বইয়ে থমকে গেছেন ফক্সক্রফটের আগে আর মাত্র পাঁচজন। তাদের মধ্যে সবশেষ ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। কিংবদন্তি হয়ে ওঠার বার্তা অভিষেকেই দিয়েছিলেন ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান। ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে যে ইনিংসে অভিষেকে শতরান করেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি, সেটিতেই ৯৫ রানে ফিরেছিলেন দ্রাবিড়।
এছাড়াও অভিষেকে সাত নম্বরে নেমে এই অভিজ্ঞতা হয়েছে ১৯৯৫ সালে শ্রীলঙ্কার চামারা দুনুসিংহের (৯১), ১৯৫১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্সি ম্যানসেল (৯০), ১৯৩৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার আর্থার চিপারফিল্ড (৯৯) ও ১৯১১ সালে অস্ট্রেলিয়ার রয় মিনেটের (৯০)।
বেলফাস্টে এ দিন ফক্সক্রফটের বিদায় দিয়েই নিউ জিল্যান্ড ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ৮ উইকেটে ৪৯০ রানে। ফক্সক্রফট যেমন শতরানের সুবাস পেয়েও হারান, তেমনি ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও অল্পের জন্য পারেননি টম ব্লান্ডেল। প্রথম দিন শেষে ১৪২ রানে অপরাজিত থাকা কিপার-ব্যাটার আউট হন ১৮৬ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে তো বটেই, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই তার সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। আগের দিন রাচিন রাভিন্দ্র আউট হন ১২১ রানে।

