লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে সহায়তা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু লেবানন নয়, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহযোগীর’ ভূমিকা পালন করছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মার্চের শুরুতে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩২৪ জন নিহত এবং ১০ হাজার ২৭ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি রিজক বলেন, ইরান হিজবুল্লাহকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে দেখে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় তেহরান সংগঠনটির স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো হিজবুল্লাহকে মেনে নিতে পারে, যদি এর বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুসহ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে এ সম্ভাবনাই ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
রিজকের মতে, ভবিষ্যতে লেবাননের পরিস্থিতি সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপথের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনসারিয়া, আল-খারাইব, শাবরিহা, সারাফান্দ, আদলুন ও বাইসারিয়াসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, হিজবুল্লাহর সদস্য, স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করলে মানুষ নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

