দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের পর জলমগ্ন একটি গুহার ভেতরে এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা পাঁচজন গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে লাওস ও থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্ধারকারী দল।
জানা গেছে, গত বুধবার জাইসোম্বুন প্রদেশের একটি গুহায় মোট সাতজন গ্রামবাসী সোনা ও বন্যপ্রাণীর খোঁজে প্রবেশ করেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা ভেতরে আটকা পড়ে যান।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, গুহার ভেতরের পথ অত্যন্ত সরু ও জটিল ছিল, কোথাও কোথাও মাত্র ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া চেম্বার দিয়ে অতিক্রম করতে হয়েছে তাদের। কাদা ও পানিতে প্রায় ডুবে থাকা অবস্থায় অভিযান চালিয়ে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছান তারা।
উদ্ধার অভিযানের ফুটেজে দেখা যায়, দলটি সংকীর্ণ ও জলমগ্ন পথ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। পরে পাঁচজনকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
লাওসের স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার সংস্থা ‘রেসকিউ ভলান্টিয়ার ফর পিপল’-এর কর্মকর্তা বুঙ্খাম লুয়াংলাথ বলেন, নিখোঁজ দুইজনকে খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে জানান, এই উদ্ধার অভিযান তাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে উদ্ধারকারী দল জানায়, পাঁচজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা গেলেও বাকি দুইজনের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের উদ্ধারকর্মী কেংকাচ ব্যাংকাওং জানান, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আটকে পড়া গ্রামবাসীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তিনি এর আগে ২০১৮ সালের থাইল্যান্ডের আলোচিত গুহা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে একটি ফুটবল দলকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি

