শেষবারের মতো গ্যালারি মাতাবেন জলিল চাচা

0
শেষবারের মতো গ্যালারি মাতাবেন জলিল চাচা

পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি প্রতিচ্ছবি চৌধুরী আব্দুল জলিল; যিনি দেশটির ক্রিকেটে শুরু এবং উত্থানের সাক্ষী। এমনকি পড়ন্ত বেলারও। ক্রিকেটপাড়ায় তিনি ‘জলিল চাচা’ কিংবা ‘চাচায়ে ক্রিকেট’ নামে পরিচিত।

ওয়াসিম আকরাম, ইমরান খান হয়ে বর্তমান প্রজন্মের শাহীন আফ্রিদি, রিজওয়ানদের ক্রিকেটের প্রেমে পড়ে ছুটেছেন এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। 

এই কিংবদন্তি জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে তিনি শেষবারের মতো গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন। ৭৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ সমর্থক জানান, বয়সজনিত স্বাস্থ্যগত কারণে আগামী ৩০ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত তিন ম্যাচের এই সিরিজের মাধ্যমেই স্টেডিয়ামে তার সরাসরি উপস্থিতি শেষ হবে।

উদ্বোধনী ওয়ানডে পাকিস্তান রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়াকে আতিথ্য দেবে এবং শেষ দুটি ম্যাচ লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে।

চাচা ক্রিকেট তার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে একটি স্মরণীয় বিদায় নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিশেষ করে ৪ জুন লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বিদায়ের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ৪ জুন পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে আমি গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আমার শেষ ওয়ানডে ম্যাচ দেখব। আমি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং পিসিবি ম্যানেজমেন্টকে অনুরোধ করছি, দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং সাফল্যের সঙ্গে বিদায় জানাতে। ম্যানেজার অপারেশনস অ্যান্ড ইভেন্টসকে ইমেল পাঠিয়েছি। পিসিবির ইতিবাচক উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। পাকিস্তান জিন্দাবাদ।

তার বার্তায় তিনি কয়েক দশকের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সেই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে একটি উপযুক্ত সম্মাননা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এ মাঠে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাকিস্তানকে সমর্থন করে এসেছেন।

১৯৮০-এর দশকে শারজায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে খেলার যাত্রা শুরু করেন চৌধুরী আব্দুল জলিল। ১৯ বছর বয়সে প্রথম গ্যালারিতে এসেছিলেন তিনি। যেখানে পাকিস্তান প্রায়শই তাদের হোম সিরিজ খেলত এবং পরে ১৯৯৬ সালে তিনি দেশটির ক্রিকেপ বোর্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত মাসকট হন।

তিনি অটল নিষ্ঠার জন্য পরিচিত, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ভালো বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। এমনকি বিশ্বজুড়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের সমর্থনে ভ্রমণের খরচ জোগাতে তিনি ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও বিক্রি করে দিয়েছেন। ১৯৪৯ সালের ৮ অক্টোবর শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী চৌধুরী আব্দুল জলিলকে গ্যালারিতে তার ঐতিহ্যবাহী উজ্জ্বল সবুজ কুর্তা, লম্বা সাদা দাড়ি এবং একটি ঝকঝকে তারকা ও অর্ধচন্দ্র খচিত সাদা টুপির জন্য সহজেই চেনা যায়।

বছরের পর বছর ধরে তিনি পাকিস্তানি ক্রিকেট সংস্কৃতিতে আবেগ ও আনুগত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এ সময় দর্শকদের উজ্জীবিত এবং দলের মনোবল বাড়াতে ব্যস্ত থাকেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here