কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ লিও। সোমবার প্রকাশিত তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তিনি সরকারগুলোকে সতর্কভাবে এআই ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, ভুল তথ্য ছড়িয়ে এআই বিশ্বকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ভ্যাটিকানে এক অনুষ্ঠানে পোপ বলেন, কিছু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা এখন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরাগভাজন হন পোপ লিও। এবার ‘এনসাইক্লিক্যাল’ নামে প্রকাশিত দীর্ঘ নথিতে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন।
‘ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস’ শিরোনামের ৪৩ হাজার শব্দের নথিতে পোপ বলেছেন, এআই–সংক্রান্ত তথ্য ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে রাখা উচিত নয়। তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা কমানোর কথাও বলেন।
পোপ লিখেছেন, সবকিছু যখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এগোচ্ছে, তখন এর লাগাম টানার জন্য জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তিনি শক্তিশালী আইনি কাঠামো এবং স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেন।
এনসাইক্লিক্যাল হলো ক্যাথলিক গির্জার ১৪০ কোটি অনুসারীর জন্য পোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দিকনির্দেশনা। পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এই নথি তৈরির কাজ চলছিল।
নথিতে পোপ আরও বলেন, অস্ত্র ব্যবসার মুনাফা বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতকে টিকিয়ে রাখছে। তার ভাষায়, মানবতা এখন এক সহিংস ক্ষমতার সংস্কৃতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখানে শান্তি এখন আর কোনো দায়িত্ব নয়, বরং দুটি যুদ্ধের মাঝখানে একটি ভঙ্গুর বিরতিমাত্র।
পোপ ‘জাস্ট ওয়ার’ বা ন্যায়সংগত যুদ্ধের তত্ত্বও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লিখেছেন, যেকোনো যুদ্ধকে জায়েজ করতে এই তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়। এটা এখন পুরোনো হয়ে গেছে। অস্ত্রের ব্যবহার মূলত মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের অভাবকে ফুটিয়ে তোলে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে।’

