কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১

0
কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার ভোরে এ হামলা চালানো হয়। পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর চালানো হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে রাশিয়ার হুঁশিয়ারির পর এ হামলা হয়েছে।

এএফপির সাংবাদিকেরা আজ ভোরে কিয়েভে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। আরেক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির প্রতিবেদকেরা বলেন, বিস্ফোরণের সময় সরকারি এলাকার কাছের একটি আবাসিক ভবন কেঁপে ওঠে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানালে বহু মানুষ কিয়েভের মধ্যাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন।

কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘রাজধানী শহর ব্যাপকভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে।’

তাকাচেঙ্কোর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত চারটি স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে—শেভচেঙ্কিভস্কি, দিনিপ্রোভস্কি ও পোদিলস্কি এলাকা। প্রাথমিকভাবে আবাসিক ভবনে আগুন লাগা ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

তাকাচেঙ্কো সতর্ক করে বলেন, ‘ড্রোন হামলা এখনো চলছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিও এখনো আছে। সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন!’

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেছেন, কিয়েভের উত্তর-পশ্চিমের পোদিলস্কি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার পর জরুরি চিকিৎসা দলকে পাঠানো হয়। পাশের শেভচেঙ্কিভস্কি এলাকার একটি আবাসিক ভবনের কাছেও আগুন লাগে। সেখানকার জানালাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল শনিবার সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে। এই হামলায় রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ ব্যবহার করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় আবাসিক ভবন, অফিস ও স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় একজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনে হামলার পর প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর উড়োজাহাজ ও যুদ্ধবিমানগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পোল্যান্ডের সেনাবাহিনী এ পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, পোল্যান্ডের আকাশসীমা বিশেষ করে যেসব অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত সেগুলোর আকাশসীমা নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখাই এর লক্ষ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here