মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে সংগৃহীত তেল থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়ের অন্তত ২৫ গুণ অর্থ উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাফর্নে রকল্যান্ড কমিউনিটি কলেজে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে সমর্থকদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমরা কেমন করেছি? খুব একটা খারাপ না। আমরা সেখান থেকে এত বেশি পরিমাণ তেল সংগ্রহ করেছি যে, তা দিয়ে ইরান যুদ্ধের পুরো খরচের অন্তত ২৫ গুণ উঠে এসেছে।’
যদিও ইরান যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের নির্দিষ্ট হিসাব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী সরাসরি সামরিক ব্যয় ২৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।
অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতি, সামরিক সরঞ্জাম পুনর্গঠন এবং কৌশলগত ব্যয় মিলিয়ে মোট ব্যয় ৬৩০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে ইরানে পরিকল্পিত একটি সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বর্তমানে “গুরুতর আলোচনা” চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যস্থতায় এমন একটি সমঝোতা সম্ভব হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তাও দেন। ট্রাম্প বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার বৃহৎ সামরিক অভিযান চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার প্রতিটি ধাপে ইরানি প্রতিনিধিরা এসব দাবি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরছেন। পাশাপাশি ইরান তাদের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই,আল জাজিরা

