রংপুরে খোঁজ মিলল শতবর্ষী মাধবীলতার

0
রংপুরে খোঁজ মিলল শতবর্ষী মাধবীলতার

পুরাতন রংপুর হিসেবে খ্যাত মাহিগঞ্জে দুষ্প্রাপ্য শতবর্ষী মাধবীলতার খোঁজ মিলেছে। বৃক্ষলতাটি দেখতে বৃক্ষপ্রমীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বর্তমান রংপুর নগরী গড়ে ওঠার এক হাজার বছর আগে মাহিগঞ্জ নগরী গড়ে উঠেছিল প্রাণকেন্দ্র হিসেবে। এখানেই দেখা মিলল দেশের সবচেয়ে প্রাচীন শতবর্ষী মাধবীলতার গাছ। একশ বছর থেকে একটি পাকুড়গাছ জড়িয়ে বেঁচে রয়েছে মাধবীলতা।

এত দিন মাধবীলতার পরিচয় প্রকাশ পায়নি। সম্প্রতি এই গাছটিকে আবিষ্কার করেছেন কয়েকজন প্রকৃতিপ্রেমী। তাদের এবং কৃষিবিদদের মতে এটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন মাধবীলতা। যার বয়স একশ বছরের ঊর্ধ্বে।

নদী ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা কয়েকজন প্রকৃতি ও বৃক্ষপ্রেমী মাগিহঞ্জে ঘুরতে গিয়েছিলাম। মাহিগঞ্জের ভিসা সেন্টার থেকে যে সড়কটি দমদমা পর্যন্ত গিয়েছে ওই সড়কের কিছু দূরে রাস্তার পাশে একটি পুরোনো পুকুর দেখতে পেলাম। পুকুরের অপর প্রান্তে দেখতে পেলাম একটি পাকুড়গাছকে জড়িয়ে আছে মাধবীলতার গাছটি। এই গাছটির লতা এত মোটা যে প্রথমে বিশ্বাস হয়নি এটি মাধবীলতা। পরে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি মাধবীলতা। এর বয়স একশ বছরের বেশি হবে। এটি সম্ভবত দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন এবং
বড়।

মাধবীলতা আবিষ্কারের আরেক সঙ্গী ওয়ার্ল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার কবি ও লেখক রানা মাসুদ বলেন, অনেকে মধুমঞ্জুরিকে মাধবীলতা বলে ভুল করেন। এই গাছটি মাধবীলতা। এর বয়স শতবর্ষ হবে। দুর্লভ এই গাছ সংরক্ষণ করা জরুরি। কারণ, এটি একটি সম্পদ।

পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, পুরাতন রংপুর খ্যাত মাহিগঞ্জকে নিয়ে রংপুরবাসীর গর্বের শেষ নেই। এখানে এখনো কেউ এলে ফিরে যান সোনালি অতীতে। ডিমলা কালীমন্দির এলাকার মাধবী ফুলের গাছটি এই শহরকে করেছে গর্বিত। এই গাছটিকে সুযোগ পেলে দেখে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

গাছটি সম্পর্কে জানা গেছে, মাধবী বা মাধবীলতার অনেক নাম- মণ্ডপ, কামী, পুষ্পেন্দ্র, অভীষ্টগন্ধক, অতিমুক্ত, বিমুক্ত, কামুক ও ভ্রমরোৎসব। একসময় আমাদের দেশে প্রচুর মাধবীলতা পাওয়া যেত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এই গাছটি হারিয়ে যেতে বসেছে। এটি এখন দুর্লভ প্রজাতির। মাধবী বৃক্ষারোহী লতা এবং দীর্ঘজীবী। ডাল ছোট ছোট এবং ঝোপঝাড় হয়ে যায়। এভাবে বহুবর্ষী হলে ধীরে ধীরে মূল লতাটি বেশ মোটা হয়ে যায়। ডাল দু-তিন বছর পরপর কেটে দিতে হয়, তারপর লতা যতই বাড়তে থাকে ততই নতুন নতুন ডালপালা গজায় ফুল বেশি ফোটে। এর মোটা মোটা ডালের ছাল মেটে রঙের, ভেতরের কাঠ লালচে ও শক্ত। পাতা বিপরীতমুখী, আয়তাকার, বোঁটার দিক থেকে আগা ক্রমশ সরু, সাধারণত ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। অনেকটা চাঁপা ফুলের পাতার মতো।

বাগানের শোভার জন্য যত্ন করে মাধবী লাগানো হয়। তবে এই লতাগাছটি এখন প্রায় দুষ্প্রাপ্য। মাধবী অযত্নেও বাড়ে, বীজ থেকে চারা হয়, ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে রাখলেও চারা পাওয়া যায়। মাধবীর পাতা গরু-ছাগলে খায়। এর রক্তচাপ কমানোর গুণাবলী আছে। পাতা হাঁপানি, বাত ও বিভিন্ন চর্মরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here