ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রী কবিতা খাতুন গরু পালন করে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন। কঠোর পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তারা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে তারা একটি শাহিওয়াল ও দুটি ফ্রিজিয়ান ষাঁড়সহ মোট তিনটি গরু বাজারে তোলার আশা করছেন। গরু তিনটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা।
মহিউদ্দিন আগে শুধু ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু কৃষিকাজে লাভ কম হওয়ায় সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করেন। সেই ভাবনা থেকেই ২০২১ সাল থেকে তারা ছোট পরিসরে গরু পালন শুরু করেন। শুরুতে দুটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তাদের খামারে দেশি ও উন্নত জাতের সাতটি গরু রয়েছে। গরু পালন থেকে নিয়মিত আয় হওয়ায় এখন তাদের সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের অন্যান্য খরচও নির্বিঘ্নে চালাতে পারছেন তারা।
কবিতা খাতুন বলেন, ‘শুধু ঘরের কাজ করেই বসে থাকিনি। স্বামীর সঙ্গে গরুর যত্ন নিয়েছি। পরিশ্রমের ফল এখন আমরা পাচ্ছি।’
মহিউদ্দিন জানান, সঠিক পরিচর্যা ও আন্তরিক চেষ্টা থাকলে গবাদিপশু পালন লাভজনক হতে পারে। তিনি অন্যদেরও গরু পালনে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।
তবে তিনি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কেউ কোনো দিন আসেনি, খোঁজও নেয়নি। তারা এসে পরামর্শ দিলে আরও বেশি লাভ করা সম্ভব হতো।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক কেএম সালেহ বলেন, ‘মহিউদ্দিন ও কবিতার সফলতা এলাকার অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাদের দেখাদেখি অনেক পরিবার এখন গরু পালনে আগ্রহী হচ্ছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার জানা মতে, ঝিনাইদহের বিভিন্ন খামারে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত ভিজিট করেন না। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিলে খামারিরা আরও উৎসাহিত হতেন এবং দ্বিগুণ লাভবান হতে পারতেন।’
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান বলেন, এলাকা অনেক বড়। আমাদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়া সম্ভব নয়। এছাড়া জনবল সংকটও রয়েছে। তবে কেউ যোগাযোগ করলে আমরা সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি।

