হাসপাতালে ঢুকে উত্ত্যক্ত করার কারণে আগের রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাপারাজ্জিদের তীব্র ভাষায় ধমক দিয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তবে এর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় সব রাগ ভুলে ক্যামেরার পেছনের মানুষদের আপন করে নিলেন তিনি। শুধু ক্ষমাই করলেন না, ভরা মজলিসে মিষ্টি রসিকতায় মেতে উঠলেন তাদের সঙ্গে।
বুধবার রাতে মারাঠি সিনেমা ‘রাজা শিবাজি’র সাফল্যের আনন্দ উদযাপনে আয়োজিত এক পার্টিতে হাজির হয়েছিলেন সালমান, যে সিনেমায় তাকে একটি অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানস্থলে সালমান গাড়ি থেকে নামতেই উপস্থিত সব চিত্রসাংবাদিক সমস্বরে আগের রাতের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সালমান গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পাপারাজ্জিরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘ভাই, কালকের জন্য আমরা দুঃখিত।’ কেউ কেউ আবার ভালোবেসে বলেন, ‘লাভ ইউ ভাই।’
উপস্থিত আলোকচিত্রীদের এমন কাণ্ড দেখে সালমানের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল রসিকতা জড়ানো। তিনি অনুষ্ঠানস্থলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এই জায়গাটা একদম ঠিক আছে।’ মূলত আগের দিন হাসপাতালে তাকে ঘিরে ধরার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেই এই মন্তব্য করেন ভাইজান। তবে রসিকতা সেখানেই থামেনি। সিনেমার মূল অভিনেতা ও পরিচালক রিতেশ দেশমুখকে পাশে নিয়ে সালমান পাপারাজ্জিদের আরও একটু খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘জোরে বলো—সরি!’ সালমানের এমন খুনসুটি দেখে পাশে থাকা রিতেশও হাসিতে ফেটে পড়েন, আর বাধ্য হয়ে পাপারাজ্জিরাও আরও জোরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক পরিচিতজনকে দেখতে গিয়েছিলেন সালমান। তিনি হাসপাতাল থেকে বের হতেই পাপারাজ্জিরা তার নাম ধরে চিৎকার করতে থাকেন এবং তার আগামী সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে প্রশ্ন শুরু করেন। হাসপাতালে এমন অনধিকার প্রবেশ ও সংবেদনশীলতার অভাব দেখে চটে যান সালমান। রাতেই ইনস্টাগ্রামে একের পর এক পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
একটি পোস্টে সালমান লেখেন, যদি কেউ আমার ক্ষতি বা দুঃখের মধ্য দিয়ে টাকা কামাতে চায়, তবে চুপ থাকুন। আনন্দ পাবেন না। ভাই ভাই ভাই বলে চিৎকার করছেন, অথচ মাতৃভূমি সিনেমার কী দরকার এখন? সিনেমার প্রচার বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি মানুষের জীবন? অন্য একটি পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, এমন শ’খানেক ক্যামেরা আমি জ্বালিয়ে দিতে পারি। আমার কোনো ভাইয়ের দুঃখের সময়ে পরের বার আমার সঙ্গে এমনটা করার চেষ্টা করেই দেখো না! তোমাদের পরিবারের কেউ হাসপাতালে থাকলে কি আমি এমন আচরণ করতাম? নিজের চিরচেনা লড়াকু মেজাজে ৬০ বছর বয়সী এই তারকা আরও লেখেন, ষাটের কোঠায় পা দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু লড়াই করতে ভুলে যাইনি, এটা মাথায় রেখো। জেলে পুরবে? হা হা হা…
হাসপাতালের এই ঘটনার ঠিক দুদিন আগে অবশ্য একাকিত্ব নিয়ে একটি রহস্যময় পোস্ট করেছিলেন সালমান। নিজের সুগঠিত শরীরের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, একা থাকা এবং একাকী বোধ করার মধ্যে তফাৎ আছে। একা থাকাটা নিজের পছন্দ, আর একাকিত্ব হলো যখন কেউ আপনার পাশে থাকতে চায় না। এবার আপনারা বুঝে নিন আপনাদের কী করা উচিত। সালমানের সেই পোস্টে তার ২০০৫ সালের ‘লাকি’ সিনেমার সহ-অভিনেত্রী স্নেহা উল্লাল মন্তব্য করেন, ‘উফ আদি (সিনেমার চরিত্র), লাকি সিনেমার শুটিংয়ের সময় কেন এমন শরীর বানাওনি?’
সালমানকে সর্বশেষ পর্দায় ‘রাজা শিবাজি’ সিনেমায় জিভা মাহালা চরিত্রে দেখা গেছে। খুব শিগগিরই তাকে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে আগামী অ্যাকশন সিনেমা ‘মাতৃভূমি’তে।
সূত্র: এনডিটিভি

