কোরবানির পশু কেনার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

0
কোরবানির পশু কেনার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কেউ গরু, কেউ ছাগল বা ভেড়া কিনতে হাটে যাচ্ছেন। তবে অভিজ্ঞতার অভাব বা তাড়াহুড়োর কারণে অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। বাইরে থেকে মোটাতাজা দেখালেও পরে দেখা যায় পশুটি অসুস্থ, বয়স ঠিক নয় কিংবা কৃত্রিমভাবে মোটা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে সহজেই ভালো, সুস্থ ও উপযুক্ত কোরবানির পশু নির্বাচন করা সম্ভব।

চোখ-মুখ দেখেই মিলতে পারে সুস্থতার ধারণা

সুস্থ পশুর অন্যতম লক্ষণ তার চোখ ও স্বাভাবিক আচরণ। পশুর চোখ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকলে সেটি সাধারণত সুস্থ বলে ধরা হয়। চোখ অতিরিক্ত লাল, ঘোলা বা পানি পড়লে সতর্ক হতে হবে। নাক ভেজা ও পরিষ্কার থাকাও ভালো লক্ষণ। অন্যদিকে মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া, কাশি দেওয়া বা হাঁপানো অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে।

দাঁত দেখে বয়স যাচাই জরুরি

কোরবানির পশুর বয়স শরিয়ত অনুযায়ী হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় বিক্রেতারা বয়স বেশি দেখানোর চেষ্টা করেন। তাই দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণের কৌশল জানা দরকার। সাধারণত গরুর দুইটি স্থায়ী দাঁত উঠলে তার বয়স প্রায় দুই বছর ধরা হয়। চার দাঁত হলে আরও বেশি বয়স বোঝায়। ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রেও দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা যায়।

কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ চিনবেন যেভাবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত পশু মোটা করতে ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। এতে পশু দেখতে বড় হলেও মাংসের গুণগত মান নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশুর শরীরে অস্বাভাবিক ফোলা ভাব দেখা যায়। অনেক সময় পশু হাঁটতে কষ্ট পায় বা অস্থির আচরণ করে। শরীরের চামড়া টানটান হলেও স্বাভাবিক প্রাণশক্তি কম থাকে।

চলাফেরা ও আচরণ খেয়াল করুন

সুস্থ পশু সাধারণত চঞ্চল ও স্বাভাবিক আচরণ করে। খুঁড়িয়ে হাঁটা, বারবার বসে পড়া বা চলাফেরায় সমস্যা থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত। পশুর শরীরে ক্ষত, ঘা বা চামড়ার রোগ আছে কি না সেটিও ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। লেজ, কান ও খুর পরিষ্কার থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার খাওয়ার অভ্যাস জেনে নিন

সম্ভব হলে বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিন পশুটি নিয়মিত খাবার খায় কি না। সুস্থ পশুর রুচি স্বাভাবিক থাকে। একেবারেই খাবার না খাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বল দেখালে সেটি অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত পানি বা খাবার খাইয়ে পশুকে সাময়িকভাবে বড় দেখানোর চেষ্টা করা হয়।

হাটে নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কতা জরুরি

কোরবানির হাটে ভিড় বেশি থাকায় চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণার ঘটনাও ঘটে। তাই সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা বা মূল্যবান জিনিস না রাখাই ভালো। সম্ভব হলে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা নিরাপদ। একা না গিয়ে পরিচিত কাউকে সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দরদামের আগে বাজার যাচাই করুন

একটি পশুর দাম এক হাটে একরকম, অন্য হাটে আরেক রকম হতে পারে। তাই একাধিক হাট ঘুরে বা কয়েকটি পশুর দাম তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। শুধু আকার দেখে বেশি দাম না দিয়ে পশুর স্বাস্থ্য, বয়স ও গঠন বিবেচনায় দাম নির্ধারণ করা উচিত।

ধর্মীয় বিধানও গুরুত্বপূর্ণ

কোরবানির পশু অবশ্যই নির্দিষ্ট ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। অন্ধ, মারাত্মক অসুস্থ, অতিরিক্ত দুর্বল বা পা ভাঙা পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়। তাই পশু কেনার আগে ধর্মীয় বিধান সম্পর্কেও ধারণা রাখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোরবানির পশু কেনা শুধু কেনাকাটা নয়, এটি ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে পশুর স্বাস্থ্য, বয়স ও উপযুক্ততার দিকে গুরুত্ব দিয়ে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here