রফতানি ব্যবস্থায় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার

0
রফতানি ব্যবস্থায় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার

রফতানি ব্যবস্থায় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। এতে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুধবার ইন্দোনেশিয়া একটি বিস্তৃত রফতানি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে দেশটির প্রধান প্রধান পণ্য রফতানি- বিশেষ করে পাম অয়েল, কয়লা ও ফেরোঅ্যালয়- কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক সম্পদের বিক্রি ও মূল্য নির্ধারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে রাজস্ব বৃদ্ধি করা।

এই পরিকল্পনার আওতায় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল দানান্তারা একটি নতুন ট্রেডিং কোম্পানি পরিচালনা করবে, যা ধাপে ধাপে রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রথম পর্যায়ে পাম অয়েল, কয়লা ও ফেরোঅ্যালয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিন মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং পরবর্তী ধাপে আরও পণ্য যুক্ত করা হতে পারে।

পার্লামেন্টে এক বক্তব্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো কঠোর ভাষায় বলেন, “আমি আমার মন্ত্রিসভাকে বলেছি- নিকেল, স্বর্ণ ও অন্যান্য পণ্যের দাম আমাদেরই নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিটি দাম আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ আমাদের নির্ধারিত দামে না কেনে, তাহলে তাদের কিনতে হবে না। আমরা নিজেরাই তা ব্যবহার করতে পারি।”

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম অয়েল, থার্মাল কয়লা ও নিকেলের রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে রফতানিতে আন্ডার-ইনভয়েসিং এবং ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ মোকাবিলা করতে চায় সরকার।

তবে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিকেল আকরিকের কোটা কঠোর করা, কর বৃদ্ধি এবং নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইন্দোনেশিয়ায় চীনা চেম্বার অব কমার্স।

ম্যাককোয়ারি ক্যাপিটালের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গবেষণা বিভাগের প্রধান জেইডেন ভান্তারাকিস বলেন, বিনিয়োগকারীরা নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন, যার ফলে বাজার থেকে মূলধন বেরিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই জ্বালানি ও খনিজসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতে শক্তভাবে যুক্ত রয়েছে, ফলে নতুন পরিকল্পনা বড় পরিবর্তন আনবে না।

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড নিম্নস্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দেশটির অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

দেশটির সরকার ১ জুন থেকে একটি নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে, যার অধীনে সব প্রাকৃতিক সম্পদ রফতানিকারককে তাদের পুরো রফতানি আয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে রাখতে হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ রুপিয়াহ মুদ্রাকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার গত দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

এর আগে বাজারে এই পরিকল্পনা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। জাকার্তার প্রধান স্টক সূচক সামান্য পতনের পাশাপাশি আগের দিন বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, নীতির বাস্তবায়ন, বাণিজ্য প্রবাহ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও দাবি করেন, গত ৩৪ বছরে কম মূল্যে পণ্য বিক্রির কারণে ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৯০৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ হলেও এর মূল্য নির্ধারণ হয় অন্য দেশে- যা পরিবর্তন করতে চায় সরকার। সূত্র: রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here