ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নীতির বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪ রিপাবলিকান

0
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ নীতির বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪ রিপাবলিকান

ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের একক ক্ষমতা খর্ব করতে এবং ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের আওতায় তার কর্তৃত্বকে বেঁধে ফেলতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন চারজন রিপাবলিকান সিনেটর। মঙ্গলবার সিনেটে প্রস্তাবটি ৫০-৪৭ ভোটে পাস হয়। এই ভোটাভুটিতে তিনজন রিপাবলিকান সিনেটর অনুপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া এই চার রিপাবলিকান সিনেটর হলেন— কেন্টাকির র‍্যান্ড পল, মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মায়কোভস্কি এবং লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট দলের পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। এই দলবদলকে প্রেসিডেন্টের জন্য একটি বিরল এবং প্রকাশ্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, চলমান এই যুদ্ধ দীর্ঘ ৮১ দিনে গড়ালেও ট্রাম্প তার নিজের দল ও ভোটারদের কাছ থেকে বড় ধরনের সমর্থন পেয়ে আসছিলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। একইসঙ্গে বেসামরিক নাগরিক এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই যুদ্ধে পেন্টাগনের সবশেষ হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এবং মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে।

মঙ্গলবার সিনেটের এই ভোটের মানে এই নয় যে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবেন, তবে এটি আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বড় নৈতিক বিজয়। ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, যুদ্ধ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া একটানা ৬০ দিনের বেশি সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন না। সেই হিসেবে গত ১ মে এই সময়সীমা পার হয়ে গেছে। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই এই সময়সীমার ঘড়িটি বন্ধ রয়েছে, যা ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে সেনা মোতায়েন রাখার জন্য আরও অন্তত ৪০ দিন সময় দেয়। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে।

তবে এই যুদ্ধ ক্ষমতা আইনটি পুরোপুরি কার্যকর করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের এই মূল প্রস্তাবটি ১০০ সদস্যের সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ— উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করাতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যা বেশ কঠিন, কারণ উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে তারা ২১৭-২১২ এবং সিনেটে ৫৩-৪৫ আসনে এগিয়ে আছে। সাধারণত দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিয়ে থাকেন।

এদিকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ও নতুন প্রস্তাব বিনিময় চলতি সপ্তাহেও অব্যাহত রয়েছে। ইরান তাদের ১৪ দফার একটি পরিকল্পনা পেশ করেছে, যার মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অপরিশোধিত তেল রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের কর্তৃত্বের স্বীকৃতির দাবি রয়েছে। বিপরীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ করা আনুমানিক ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত সমর্পণের দাবি জানানো হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে পরিস্থিতি মোটের ওপর শান্ত থাকলেও, উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘন এবং অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ তুলছে। সোমবার ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে তিনি পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল করেছেন, যারা তাকে আশ্বস্ত করেছে যে বর্তমানে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব এবং বাহরাইন তাকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে একই পোস্টে তিনি বড় অক্ষরে সতর্ক করে লিখেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস, এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here