ছবির জন্য নতুন অ্যাপ এনেছে ইনস্টাগ্রাম। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কোনো এডিটিং বা ফিল্টার ছাড়াই দ্রুত ছবি তুলে শেয়ার করতে পারবেন এবং দেখার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।
‘ইনস্ট্যান্টস’ নামের নতুন এ ফিচারের মাধ্যমে ক্ষণস্থায়ী বা সাময়িক ছবি শেয়ার করার বিষয়টি আবারও নিয়ে আসছে ইনস্টাগ্রাম, যা অ্যাপের পাশাপাশি প্লাটফর্মটিতে আলাদা একটি অ্যাপ হিসেবেও পাওয়া যাবে।
এ ফিচারের মূল উদ্দেশ্য, কোনো রকম সাজগোজ বা কৃত্রিমতা ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে ছবি তুলে শেয়ার করা, ঠিক যেমনটা শুরুর দিনগুলোতে ইনস্টাগ্রাম ছিল, বিষয়টি তেমনই বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
ব্যবহারকারীর বন্ধুরা একবার এসব ছবি দেখে ফেললে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে। তবে তারা চাইলে ছবিতে রিঅ্যাক্ট বা রিপ্লাইও দিতে পারবেন। ব্যবহারকারীর শেয়ার করা বিভিন্ন ছবি এক বছর পর্যন্ত আর্কাইভে জমা থাকবে এবং পরে চাইলে অনেকগুলো ছবি একসঙ্গে মিলিয়ে ‘রিক্যাপ’ হিসেবে স্টোরিতে শেয়ার করতে পারবেন। মূল অ্যাপের ডাইরেক্ট মেসেজ বা ডিএম ইনবক্সের নিচের ডান কোণায় থাকা ফটো স্ট্যাক আইকনে ট্যাপ করে ফিচারটি ব্যবহার করা যাবে।
তবে এখানে ছবি এডিট করা বা ফিল্টার ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। গ্যালারি থেকেও কোনো ছবি আপলোড করা যাবে না। ব্যবহারকারী কেবল ছবি তোলার পর তাতে একটি ক্যাপশন যোগ করতে পারবেন। ছবি তোলার পর ব্যবহারকারী নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা অনুসারীদের সঙ্গে তা শেয়ার করতে পারবেন। পাঠানোর পর যদি কারো মনে হয় ছবিটি পাঠানো ঠিক হয়নি, তবে সেখানে থাকা ‘আনডু’ বাটনের মাধ্যমে বন্ধুরা দেখার আগেই ছবিটি মুছে ফেলার সুযোগ পাবেন।
বন্ধুদের পাঠানো ‘ইনস্ট্যান্টস’ ছবিগুলো ব্যবহারকারী দেখতে না চাইলে ইনবক্সে থাকা আইকনটি চেপে ধরে ডান দিকে সোয়াইপ করে তা সাময়িকভাবে বন্ধ বা ‘স্নুজ’ করে রাখা যাবে। আবার বাম দিকে সোয়াইপ করলেই সেগুলো দেখা যাবে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু দেশে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এ আলাদা অ্যাপটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে ইনস্টাগ্রাম।
কোম্পানিটি এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, ব্যবহারকারীরা যাতে আরও দ্রুত ও সহজে ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন, সেই চাহিদা থেকেই তারা ফিচারটি নিয়ে কাজ করছেন। তাদের এ বক্তব্য থেকে আসলে এমনটিই স্পষ্ট হয় যে, মূল ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি এখন অতিরিক্ত ফিচারে ঠাসা ও বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। ‘ইনস্ট্যান্টস’ ফিচার ও অ্যাপটিতে ইনস্টাগ্রামের সাধারণ সব নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে অন্য ব্যবহারকারীদের ব্লক বা মিউট করার সুবিধাও থাকছে।
ইনস্টাগ্রামের মূল অ্যাপে টিনএজারদের অ্যাকাউন্টের জন্য যে ধরনের অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে তা এখানেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের সীমা ঠিক করে দেওয়া ও স্ক্রিনশট বা স্ক্রিন রেকর্ডিং বন্ধ রাখার মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এ ছাড়া রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এ ফিচারের ব্যবহার ডিফল্টভাবেই সীমিত থাকবে। কোনো টিনএজার যদি আলাদা ‘ইনস্ট্যান্টস’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে তবে তার অভিভাবকের কাছে তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন চলে যাবে।
স্ন্যাপচ্যাট বা ‘বিরিয়াল’-এর মতো বিভিন্ন অ্যাপে সঙ্গে টেক্কা দিতে ইনস্টাগ্রাম এবারই যে এমন কিছু প্রথমবারের মতো করছে, তা নয়। এর আগেও তারা স্ন্যাপচ্যাটের অনুকরণে ‘স্টোরিজ’ এনে সফল হয়েছিল। ২০১৪ সালে তারা ‘বোল্ট’ নামে দ্রুত ছবি শেয়ারের একটি অ্যাপ নিয়ে এসেছিল। চার বছর আগেও তারা ‘বিরিয়েল’-এর আদলে ‘ক্যান্ডিড স্টোরিজ’ নামের ফিচার চালু করেছিল।

