ইরানের ওপর পূর্ব পরিকল্পিত সামরিক হামলা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, মঙ্গলবারের জন্য নির্ধারিত হামলা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, কারণ ইরানকে নিয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে।
ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি এখন কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তিনি পরিষ্কার করে দেন, আলোচনায় সন্তোষজনক ফল না এলে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। তার নির্দেশে মার্কিন সেনাবাহিনীকে ‘মুহূর্তের নোটিশে’ পূর্ণমাত্রার হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এই ঘোষণা আসলো এমন সময়ে যখন ট্রাম্প এর আগেই সতর্ক করেছিলেন—ইরানের জন্য ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে’। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত চুক্তিতে না পৌঁছালে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি হওয়া যুদ্ধবিরতিকে তিনি বারবার অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর নেতাদের অনুরোধেই তিনি সাময়িকভাবে হামলা থেকে সরে এসেছেন। তারা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
যদিও এর আগে ট্রাম্প সরাসরি ১৯ মে হামলার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেননি। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত বেশ স্পষ্ট ছিল।
এদিকে ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনা সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবার বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

