নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আইএসের শীর্ষ নেতা আবু বিলাল আল-মিনুকিকে হত্যার অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা সরাসরি অংশ নেয়নি। যদিও এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে ওই আইএস নেতা নিহত হয়েছেন।
নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএএনের বরাতে দেশটির ডিফেন্স মিডিয়া অপারেশনের পরিচালক মেজর জেনারেল মাইকেল ওনোজা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। তবে স্থল অভিযানে মার্কিন সেনারা অংশ নেয়নি।
তিনি জানান, কয়েক মাসের গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বয়ের পর এই অভিযান চালানো হয়। এর আগে ২০২৪ সালে আল-মিনুকি নিহত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছিল, তা ভুল পরিচয়ের কারণে হয়েছিল। কারণ তিনি একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
গত ১৬ মে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আল-মিনুকিকে হত্যা করেছে। তিনি তাকে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্নো রাজ্যের মেতেলে এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। এলাকাটি আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা আইএসওয়াপের (ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে আল-মিনুকিকে বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তার বিরুদ্ধে আইএসের অর্থায়ন, বিস্ফোরক সরবরাহ, প্রচারণা ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম ও আইএসওয়াপের সহিংসতায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সূত্র: শাফাক নিউজ

