যুদ্ধ-পরবর্তী গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা ইরানে ৩০টি রেলওয়াগনভর্তি মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে কাজাখস্তান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পাঠানো এই সহায়তা চালানে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানজাত মাংস, চিনি, আটা, মেডিকেল সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধ।
সহায়তা চালানটি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সারাখস রেলওয়ে স্টেশনে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান মানবিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইরানে নিযুক্ত কাজাখ রাষ্ট্রদূত ওন্তালাপ ওনালবায়েভ বলেন, “ইরান মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসলামী বিশ্বের মধ্যে কাজাখস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক অংশীদার।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত বন্ধুদের পরিচয় কঠিন সময়েই পাওয়া যায়”- যা দুই দেশের সম্পর্কের প্রতি কাজাখস্তানের সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটে ইরান
এই সহায়তা এমন এক সময় এল, যখন দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ইরান তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
ইরানের সরকারি পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ১১৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের মানবিক সহায়তা ইরানের জন্য সাময়িক স্বস্তি আনলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এটি যথেষ্ট নয়। তবে এটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও মানবিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরান বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত। সূত্র: আল-জাজিরা

