বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফিফা মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমের বৈঠক করবে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।
শনিবার (১৬ মে) আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, আজ অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে ফিফার পক্ষ থেকে তেহরানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা আশ্বাস দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের সকল দল যাতে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে প্রতিযোগিতা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ফিফা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা থাকলেও, ফেব্রুয়ারিরতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলে যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে চলতি মাসের শুরুতে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে যোগদানের জন্য ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা, যারা মেক্সিকোর যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজক, উভয়ই আইআরজিসি-কে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, অভিজাত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে তারা প্রবেশাধিকার দেবে না।
ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি এই সপ্তাহে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে বলেছেন, সমস্ত দল এবং তাদের প্রতিনিধিদল যাতে আয়োজক দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা ফিফার দায়িত্ব।
তিনি লিখেছেন, ফিফার নিয়মকানুন অনুযায়ী মাঠে অংশগ্রহণের অধিকার ইরানের জাতীয় ফুটবল দল অর্জন করেছে। ফুটবলার, কারিগরি কর্মী, ফেডারেশন কর্মকর্তা বা ইরানি প্রতিনিধিদলের অপরিহার্য সদস্যদের প্রবেশে যেকোনো ধরনের বাধা বিশ্বকাপের চেতনা ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হবে। যদি আয়োজক সংস্থা এটা নিশ্চিত করতে না পারে, ইরানসহ সকল যোগ্যতাসম্পন্ন দল কোনো বৈষম্য বা বিধিনিষেধ ছাড়াই আয়োজক দেশে প্রবেশ করতে এবং সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করতে পারবে, তাহলে বিশ্বকাপের বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরান তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল, কিন্তু ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেছেন, সমস্ত ম্যাচ পূর্বনির্ধারিত মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে।

