ফ্রান্সের ‘কান উৎসবে’ ফিরেছেন আলোচিত ইরানি নির্মাতা আসগর ফরহাদি, তবে সেই প্রত্যাবর্তন হয়েছে ‘রাজসিক’।
এই পরিচালকের ফরাসি ভাষার ‘প্যারালাল টেলস’ সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছে গত বৃহস্পতিবার কান উৎসবে। সিনেমা শেষে দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫ মিনিট ধরে। সে সময় নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দুবারের অস্কারজয়ী এই নির্মাতা। এসময় তিনি দর্শকদের উদ্দেশে উড়ন্ত চুমু ছুড়ে দেন।
ভ্যারাইটি জানিয়েছে, ফরাসি অভিনেত্রী ইজাবেল হুপার ‘প্যারালাল টেলস’ সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। উজ্জ্বল লাল গাউনে হাজির হয়ে উৎসবে আলো ছড়ান তিনি। দর্শকদের করতালির সময়ে ফরহাদি তার সহশিল্পী ক্যাথরিন দেনেভ ও ভার্জিনি এফিরাকে আলিঙ্গন করেন। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসছিরেন হুপার।
কানে ফরহাদির উপস্থিতি নতুন নয়। ২০১৩ সালে ফরহাদির প্রথম ফরাসি ভাষার সিনেমা ‘দ্য পাস্ট’ ‘পাম দি’অর’ জেতার দৌড়ে ছিল। এরপর তার ‘দ্য সেলসম্যান’ সিনেমা সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতে নেয়। এছাড়া ফরহাদি ‘এভরিবডি নোজ’ ও ‘আ হিরো’ সিনেমা দুটিও কানে সাড়া ফেলে। তার ‘আ হিরো’ ২০২১ সালে গ্রাঁ প্রি পুরস্কার জেতে।
২ ঘণ্টা ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই সিনেমা অভিনেত্রী হুপারকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে। সিনেমায় তিনি সিলভি নামের এক লেখকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যিনি নিজের উপন্যাসের অনুপ্রেরণা খুঁজে পেতে নজর রাখেন প্রতিবেশীদের উপরে। এক সময় তিনি একজন তরুণকে তার সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। একটা সময়ে সেই তরুণকে ঘিরে হুপারের ব্যক্তি ও লেখক জীবন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ‘প্যারালাল টেলস’ সিনেমাটি ‘পাম দি’অর’ পুরস্কার জিতে নিতে প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়েছে।
অস্কারজয়ী ফরহাদি ইরানের বাইরে বসবাস করছেন ২০২৩ সাল থেকে। তিনি আগেই সোচ্চারভাবে বলেছিলেন যে ইরানের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে বাধ্যতামূলক হিজাব নীতির পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত তিনি নিজ দেশে আর সিনেমা নির্মাণ করবেন না।
চলতি বছরের এপ্রিলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই পরিচালক তার সহকর্মী নির্মাতাদের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাতে তিনি লিখেছিলেন, একটি দেশের অবকাঠামোতে হামলা করা যুদ্ধাপরাধ। যে কোনো বিশ্বাস বা মনোভাব নির্বিশেষে, আসুন আমরা এই অমানবিক, অবৈধ এবং ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে ঐক্যবদ্ধ হই।

