দুইবারের অস্কারজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা আসগর ফারহাদি তার নতুন চলচ্চিত্র ‘প্যারালাল টেলস’ নিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিরেছেন। ইসাবেল হুপার্ট অভিনীত ফরাসি ভাষার এই নাটকটি প্রিমিয়ারের পর সাড়ে পাঁচ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন লাভ করে।
কিন্তু উৎসবটি শুধু চলচ্চিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে, এই চলচ্চিত্র নির্মাতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেননি।
আসগর ফারহাদি জানান, তিনি তার চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজের জন্য দেশের বাইরে সময় কাটিয়ে সম্প্রতি তেহরানে ফিরেছেন। ফারহাদি তার নিজ দেশে ঘটে যাওয়া বেদনাদায়ক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার কথা বলেন, যার মধ্যে ছিল যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু এবং সংঘাত তীব্র হওয়ার আগে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা।
তিনি হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো হত্যাকাণ্ডই একটি অপরাধ।
এ নির্মাতা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে যখন আমি পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম, তখন ইরানে দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আমি গত সপ্তাহে তেহরানে ছিলাম। ওই সময়কার ঘটনাগুলোর প্রভাব এখনও আমার মধ্যে রয়ে গেছে। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো যুদ্ধে নিহত বহু নিরীহ মানুষ, শিশু এবং বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু। এই যুদ্ধের আগেও, আমাদের এমন অনেক বিক্ষোভকারী ছিলেন যারা প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন এবং তারাও সমানভাবে নিরীহ ছিলেন। কিন্তু তাদের গণহত্যা করা হয়েছিল। এই দুটি ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এগুলো কখনও ভোলা যাবে না।
এই চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্যাখ্যা করেন, বোমা হামলায় নিহত নিরীহ মানুষদের জন্য সহানুভূতি দেখানোর অর্থ এই নয় যে কেউ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, মানুষ একই সঙ্গে উভয় পরিস্থিতিতেই দুঃখ এবং রাগ অনুভব করতে পারে।
আসগর ফারহাদির মতে, যেকোনো হত্যাকাণ্ডই একটি অপরাধ। কোনো অবস্থাতেই আমি এটা মেনে নিতে পারি না।যুদ্ধই হোক, মৃত্যুদণ্ডই হোক, কিংবা বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যাই হোক। এটা জানা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক। আজকের বিশ্বে আমাদের এতসব অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রতিদিন সকালে আমরা কোনো কারণ ছাড়াই নতুন নতুন নিরীহ মানুষ নিহত হওয়ার খবর নিয়ে ঘুম থেকে উঠি।
২ ঘণ্টা ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘প্যারালাল টেলস’ ড্রামা ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে কয়েকজন কৌতূহলী প্রতিবেশীকে ঘিরে, যাদের জীবন একসময় অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যায়। ছবিতে হুপার অভিনয় করেছেন সিলভি নামের এক লেখকের চরিত্রে, যিনি নিজের নতুন উপন্যাসের অনুপ্রেরণা খুঁজতে রাস্তার ওপারের প্রতিবেশীদের ওপর নজর রাখেন।
পরে তিনি নিজের দৈনন্দিন কাজে সহায়তার জন্য তরুণ আদামকে নিয়োগ দেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই তরুণ তার ব্যক্তিগত জীবন ও লেখালেখির জগৎ—দুই–ই ওলট–পালট করে দেয়। একসময় সিলভির কল্পনার গল্প বাস্তবতাকেও ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে।

