তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার দিকে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা সরাসরি তুলে ধরেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিং সফরে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই তিনি তাইওয়ান প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন এবং বিষয়টিকে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন।
শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান প্রশ্ন সঠিকভাবে সামাল দেওয়া গেলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। কিন্তু ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে তা সরাসরি সংঘাত তৈরি করতে পারে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি একসঙ্গে সম্ভব নয়। তার ভাষায়, এ দুটি বিষয় ‘আগুন ও পানির মতো পরস্পরবিরোধী’।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান বদলের অতীত ইতিহাস মাথায় রেখেই শি জিনপিং এত স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় বার্তা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি চীনের অবস্থান কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত, তা সরাসরি বোঝাতে চেয়েছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের চারপাশে চীনা যুদ্ধবিমানের টহল প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কোনো দিন কয়েকটি, আবার কোনো দিন অনেক বেশি যুদ্ধবিমান দ্বীপটির আশপাশে দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাম্পের বেইজিং সফর শুরু হওয়ার পর হঠাৎ সেই উড়াউড়ি বন্ধ হয়ে যায়।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত দ্বীপটির আকাশসীমার আশপাশে কোনো চীনা যুদ্ধবিমান দেখা যায়নি। যদিও সাতটি চীনা নৌজাহাজ তাইওয়ানের আশপাশের সমুদ্রে অবস্থান করছিল।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার অঙ্গীকার করে আসছে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথও খোলা রেখেছেন শি জিনপিং। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে উত্তেজনা না বাড়াতেই সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান পাঠানো কমিয়ে থাকতে পারে বেইজিং।

