যুদ্ধবিরতি শেষে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া

0
যুদ্ধবিরতি শেষে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে ইউক্রেনে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে করে নিহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। এ ছাড়া আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হামলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী কিয়েভ, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ এবং কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওডেসাসহ আরও কয়েকটি এলাকা। জেলেনস্কি জানান, প্রায় ৮০০ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি কিয়েভের।

রুশ হামলার জবাবে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও ব্যাপক ড্রোন অভিযান চালিয়েছে ইউক্রেন। ওরেনবার্গের একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানায় হামলার খবরও পাওয়া গেছে। মস্কোর দাবি, বুধবার ভোররাতে তিনটি শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এর আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গত ৯ থেকে ১১ মে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেছে দেশ দুটি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক চেষ্টাগুলো।

এদিকে, নতুন একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। ‘সারমাত’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং এতে পরমাণু অস্ত্র বহনের সুবিধাও রয়েছে। এটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে মস্কো।

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এই ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা যেকোনো কিছুর চেয়ে চার গুণ বেশি শক্তিশালী অস্ত্র বহন করতে সক্ষম। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাত ‘যুদ্ধকালীন দায়িত্বে’ মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি।

এমন সময় রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র–সংক্রান্ত একটি চুক্তির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। ‘নিউ স্টার্ট’ নামের ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করার কথা ছিল ওয়াশিংটন ও মস্কোর। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন দুই দেশের এ–সংক্রান্ত কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না।
নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উচ্চ পর্যায়ের সামরিক সংলাপ শুরু করতে রাজি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। তবে শিগগিরই এই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here