ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন নেইমার। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও তাকে ঘিরে এখনো রয়েছে ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেবল আবেগ বা জনপ্রিয়তার কারণে দলে জায়গা পাবেন না নেইমার।
আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে ব্রাজিল। এর আগে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছে দলটি। ব্রাজিলের গণমাধ্যমগুলোর খবর, সেই তালিকায় রয়েছেন নেইমারও। তবে চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে হলে তাকে শতভাগ ফিট এবং সেরা ছন্দে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, ‘দল নির্বাচন করতে গেলে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হয়। নেইমার অসাধারণ প্রতিভাবান এবং ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। কিন্তু তার কিছু সমস্যা আছে, যেগুলো কাটিয়ে উঠতে সে কঠোর পরিশ্রম করছে। সম্প্রতি তার উন্নতি হয়েছে, নিয়মিত খেলছেও। তারপরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের সব কিছু খুব সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হবে।’
বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে সফল কোচদের একজন আনচেলত্তি। ইউরোপের পাঁচটি বড় লিগেই শিরোপা জয়ের কীর্তি আছে তার। এছাড়া পাঁচবারের মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিও জিতেছেন কোচ হিসেবে। এবার তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে সাফল্য এনে দেওয়া।
নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিল দলে আবেগের জায়গাটাও কম নয়। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। সতীর্থ থেকে শুরু করে সমর্থক—সবার কাছেই এখনো ভীষণ জনপ্রিয় এই তারকা। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি নেইমার শুধু সমর্থকদের কাছেই নয়, খেলোয়াড়দের কাছেও অনেক প্রিয়। তাকে দলে নিলে ড্রেসিংরুমে কেমন পরিবেশ হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এমন নয় যে তাকে নিলে কোনো সমস্যা হবে। সে সবার কাছে খুব পছন্দের একজন।’
দলের অন্য খেলোয়াড়দের মতামতকেও স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন ব্রাজিল কোচ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিজের হাতেই থাকবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘খেলোয়াড়রা তাদের মতামত দেবে, এটাই স্বাভাবিক। যারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছে, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। আমি মনে করি না এতে দলের পরিবেশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দলের ভেতরের পরিবেশ খুব ইতিবাচক।’
সাম্প্রতিক সময়ে নেইমারের ফিটনেসের উন্নতিও নজরে এসেছে আনচেলত্তির। তিনি বলেন, ‘শেষ কয়েকটি ম্যাচে তার ফিটনেস অনেক ভালো ছিল। সে ভালো খেলেছে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিময় ফুটবল খেলছে। তবে প্রতিটি ম্যাচের পরিস্থিতি আলাদা।’
সবশেষে নেইমারকে দলে নেওয়া বা না নেওয়ার পুরো দায় নিজের কাঁধেই নিলেন ব্রাজিল কোচ। তার ভাষায়, ‘নেইমারকে নেওয়ার জন্য কেউ আমাকে চাপ দেয়নি। আমি পুরো স্বাধীনতা পাচ্ছি। সিদ্ধান্ত শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। একজন ফুটবলার হিসেবে সে কেমন খেলছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিখুঁত দল গড়া অসম্ভব, তবে আমি এমন একটি দল গড়তে চাই যেখানে ভুলের পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকবে।’

