পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লেবানন পাড়ি দিয়েছিলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। স্বপ্ন ছিল হাড়ভাঙা খাটুনিতে উপার্জিত অর্থে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন।
কিন্তু গত রবিবার ইসরায়েলি ড্রোন হামলা নিমিষেই স্তব্ধ করে দিয়েছে সব স্বপ্ন। লেবাননের বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সচিব আনোয়ার হোসেন নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
এদের মধ্যে শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে। নাহিদুল ইসলামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে।
দূতাবাস জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১২টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়া জিদ্দীন ফোজামাল এলাকায় একটি পাউরুটিবাহী গাড়িতে ওঠার সময় ড্রোন হামলায় নিহত হন তারা। একই দাবি করা হয়েছে, নিহত দুই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে। বর্তমানে তাদের মরদেহ নাবাতিহের নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
নিহতদের দুই পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। সচ্ছলতার স্বপ্ন পেছনে ফেলে স্বজনদের এখন একটাই দাবি, প্রিয়জনের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
নিহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। শফিকুল তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন, শিগগিরই পরিবারের ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং তার বিদেশ যাওয়ার জন্য চারটি এনজিও ও আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া আরও ছয় লাখ টাকার ঋণ খুব দ্রুত পরিশোধ করে দেবেন।
নিহত শফিকুলের ফুফাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শফিকুল ইসলামের পরিবার খুবই দরিদ্র। মামার বাড়ির মাত্র তিন শতক জায়গায় তারা বসবাস করে। সেখানে একটি ঘর করতে দশ লাখ টাকা খরচ হয় তাদের। ঋণ করেই মূলত সেই পাকা বাড়ি করা হয়। পরে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা।’
শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন, দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। এজন্য নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসে লাশ ফেরত চেয়ে দরখাস্ত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, আশাশুনির নিহত নাহিদুল ইসলামের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমার দুইটা ছেলে। বড় ছেলে নাহিদকে ৬ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার লাশটা দেশে এনে যেন মাটি দিতে পারি, সরকারের কাছে এইটুকুই দাবি।’
নাহিদুল ইসলাম নাহিদের আশাশুনির বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু। তিনি মরদেহ ফেরানোর ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘নিহত পরিবারের বাড়িতে এসে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

