দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও আশপাশের পথচারীরা। হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালনের খামার। আর সেই খামারের বিষ্ঠার তীব্র দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠেছে প্রসূতি বিভাগসহ পুরো হাসপাতাল এলাকায়।
জানা গেছে, হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন আবাসিক ভবনের ছাদে তিন শতাধিক মুরগি নিয়ে খামার গড়ে তুলেছেন। হাসপাতালের মূল ভবনের অতি কাছেই থাকা এই খামারের কারণে বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে চিকিৎসাধীন রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে প্রসূতি বিভাগ, নারী ওয়ার্ড এবং বহির্বিভাগে আসা রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ভবনের প্রায় ৩০ মিটার দূরে আবাসিক কোয়ার্টারটি অবস্থিত। গাইনি বিভাগ, অপারেশন কক্ষ ও প্রসূতি মায়েদের কেবিনের পাশেই রয়েছে ওই খামার। সামান্য বাতাস হলেই ছাদ থেকে মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে অনেক রোগী ও স্বজনকে নাকে রুমাল চেপে চলাফেরা করতে দেখা যায়।
ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা আফসানা আক্তার বলেন, ছেলে পানি খেতে চাওয়ায় কোয়ার্টারের সামনে টিউবওয়েলের দিকে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। হাসপাতালের ভেতরে এমন খামার কীভাবে হয় বুঝতে পারছি না। কর্তৃপক্ষ কি কিছুই দেখে না?
একই অভিযোগ করেন পথচারী আব্দুস ছাত্তার। তিনি বলেন, এমনিতেই শ্বাসকষ্টে ভুগছি। এখন এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই কঠিন হয়ে গেছে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এমন দুর্গন্ধের পরিবেশ সত্যিই দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে খামারের মালিক আয়া পলি খাতুন বলেন, প্রায় এক মাস আগে খামারটি করেছি। কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে কিছুটা গন্ধ হচ্ছে। অন্য সময় তেমন গন্ধ থাকে না। খামারে তিন শতাধিক মুরগি রয়েছে এবং সেগুলোর বয়স এখন ২১ দিন। আজই মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলার কথা রয়েছে।
খামারের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্যারকে জানিয়েই আমি মুরগি তুলেছি।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার দাবি করেন, হাসপাতাল কোয়ার্টারের ছাদে মুরগির খামার করা হয়েছে এ বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, ওই কোয়ার্টারটি একসময় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল। আগের কর্মকর্তা পলি খাতুনকে সেখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে মুরগির খামার করা হয়েছে, তা আমি জানতাম না। এখন বিষয়টি জেনেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

