ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, লাশ আটকে রাখার অভিযোগ

0
ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, লাশ আটকে রাখার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে প্রায় দুই লাখ টাকা নেয়ার পরও শিশুদের বাঁচানো যায়নি। এমনকি মৃত্যুর পর অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ না করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে না বলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাপ দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর তিন দিন আগে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত নবজাতকের মা সুলতানা।

নবজাতকদের স্বজনদের বাড়ি ফেনী জেলায়। ঘটনার পর হাসপাতালের সামনে স্বজনদের আহাজারি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত নবজাতকের মা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, আমার সন্তান আইসিইউতে ছিল। আমাকে না জানিয়েই তাকে আইসিইউ থেকে বের করে ফেলা হয়। এর আগে আমার মাত্র ১২ দিনের শিশুকে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পর তার শরীর কালো হয়ে যায় এবং পেট ফুলে যায়। এরপর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে আমাকে জানানো হয় আমার সন্তান মারা গেছে।

শিশুটির চাচা ইউসুফ বলেন, প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ নিয়েছে হাসপাতাল। সব ওষুধ তাদের কাছ থেকেই কিনতে হয়েছে। বাইরে থেকে ওষুধ আনলে তারা গ্রহণ করত না। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছি। তারপরও ভুল চিকিৎসার কারণে বাচ্চাটি মারা গেছে। এখন আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করে লাশ আটকে রেখেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধের অজুহাতে মরদেহ আটকে রাখে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতালের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. মজিবুর রহমান বলেন, দুই শিশুকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রথম শিশুটির মাথায় ছোট টিউমার ছিল, সে দ্রুত মারা যায়। দ্বিতীয় শিশুটির অবস্থাও খুব খারাপ ছিল। আমরা আগেই স্বজনদের জানিয়েছিলাম, শিশুটির বাঁচার সম্ভাবনা কম।

তিনি আরও বলেন, রোগীর স্বজনের অনুমতি ছাড়া আইসিইউ থেকে বের করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বলেছিলাম, আইসিইউ থেকে বের করলে শিশুটি বাঁচবে না। সব হাসপাতালেই নিয়ম অনুযায়ী বিল পরিশোধের পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়, এখানেও তাই বলা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here