বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সিমন্স

0
বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সিমন্স

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে দলের প্রস্তুতি ও মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তিনি এসময় ধারাবাহিকতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিমন্স বলেন, সিরিজ শুরুর আগে কৌশলগত দিকের চেয়ে মানসিক দিকটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব খেলোয়াড় সাম্প্রতিক সময়ে লাল বলে খেলেছে তাদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, “এটা মূলত মানসিক পরিবর্তন, তবে একই সঙ্গে অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা সাদা বলে খেলেননি এবং গত কয়েক মাস ধরে লাল বল নিয়েই কাজ করছেন। তাই পরিবর্তনটা আপনারা যতটা ভাবছেন, তার চেয়ে সহজ হবে।”

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই সিরিজে শক্তিশালী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতিকে পারফরম্যান্সে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের দিকেও বিশেষ নজর থাকবে, যিনি ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করার পর প্রথম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন। তার ধারাবাহিকতা ও প্রস্তুতির প্রশংসা করেন সিমন্স।

তিনি বলেন, “আমি যতটুকু সময়ে মুশিকে চিনেছি, তাতে মনে হয় টেস্ট ১, টেস্ট ৫০ বা টেস্ট ১০০- সব একই রকম। তিনি তার নিজের মতো করেই প্রস্তুতি নেন এবং ১০১তম টেস্টকেও ঠিক একইভাবে দেখবেন।”

শক্তিশালী পাকিস্তানী পেস আক্রমণের বিপক্ষে সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা সিমন্স ব্যাটিংয়ে শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছেন, “হোম কন্ডিশন নিযয়ে আমি তেমন কিছু বলতে চাই না। উইকেট ভালোই হবে এবং আমাদের ঠিক করতে হবে কীভাবে তাদের বিপক্ষে ব্যাট করবো। র‌্যাঙ্কিংয়ে উপরে উঠতে চাইলে সেরা বোলারদের বিপক্ষে খেলতেই হবে।’’

তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি, আমাদের লম্বা সময় ধরে ব্যাট করতে হবে এবং বড় স্কোর গড়তে হবে। সবাই এখন বড় রান করার মানসিকতায় আছে, যা ভালো লক্ষণ।”

দলে নতুন মুখ হিসেবে রয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসান। তবে চূড়ান্ত একাদশ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

সিমন্স বলেন, “নতুন খেলোয়াড়দের দলে আসা ভালো বিষয়। বৃহস্পতিবার আমরা চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করবো। কারো অভিষেক হওয়ার সুযোগ সবসময় থাকে।’’

তুলনামূলক নতুন পেসার নাহিদ রানা সম্পর্কে সিমন্স বলেছেন, ‘নাহিদ রানার সবচেযয়ে ভালো দিক হলো সে নিজের অবস্থান ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। নতুন হয়েও তার মানসিকতা বেশ পরিণত।”

তবে তার ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সিমন্স, “আমাদের তাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে, যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। আমরা চাই না সে অর্ধ-ফিট অবস্থায় খেলুক। তার গতি আমাদের দরকার, তাই তাকে যত্ন নিতে হবে।”

ড্রেসিংরুমের বাইরে থেকেই চাপ বেশি আসে বলেও মনে করেন তিনি, “আমার মনে হয় ৯৫ শতাংশ প্রত্যাশাই ড্রেসিংরুমের বাইরে। দর্শকদের প্রত্যাশা বেশি। আমরা শুধু প্রস্তুতি নিই এবং খেলতে নামার অপেক্ষায় থাকি।”

দুই দলই প্রায় সমান শক্তিশালী বলে মনে করেন সিমন্স, বিশেষ করে বোলিং বিভাগে।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি না কোনো দল এগিয়ে। দুই দলেরই ভালো পেস এবং স্পিন আক্রমণ আছে। প্রতিটি সেশনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কে কাজে লাগাতে পারে সেটাই আসল।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here