ঘরের পরিবেশ কি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে?

0
ঘরের পরিবেশ কি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে?

কাশি হলে আমরা প্রথমেই ঠান্ডা লেগেছে ভাবি। র‌্যাশ হলে খাবার বা গরমকে দোষ দিই। অ্যালার্জি হলে ধুলাবালি বা ফুলের রেণুকে কারণ মনে করি। এসব কারণ সত্যি হতে পারে। কিন্তু আরেকটি বিষয় অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায় ঘরের ভেতরের পরিবেশ। যে ঘরে আমরা প্রতিদিন ঘুমাই, বসি, খাই, কাজ করি বা শিশুদের খেলতে দিই, সেই ঘরের বাতাস যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, তাহলে শরীর বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

ঘরের ভেতরের বাতাস খারাপ হওয়ার অনেক কারণ আছে। ধুলো জমে থাকা, বিছানার চাদর দীর্ঘদিন না ধোয়া, ভারী পর্দা, পুরোনো কার্পেট, পোষা প্রাণীর লোম, ভেজা কাপড়, কম আলো-বাতাস, আর্দ্রতা এবং ফাঙ্গাসের গন্ধ—এসব মিলিয়ে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে। বাইরে থেকে ঘর পরিষ্কার দেখালেও বাতাসের মান সবসময় ভালো থাকে না।

যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে ছোট ট্রিগারও বড় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। কারও নাক দিয়ে পানি পড়ে, কারও চোখ চুলকায়, কারও ত্বকে র‍্যাশ হয়, আবার কারও কাশি বাড়ে। অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে শ্বাসের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বারবার একই ধরনের সমস্যা হলে শুধু ওষুধ খেয়ে থেমে গেলে হবে না; ঘরের পরিবেশটিও দেখা দরকার।

ত্বকের র‍্যাশের ক্ষেত্রেও আর্দ্রতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ভূমিকা রাখতে পারে। ভেজা বিছানা, স্যাঁতসেঁতে কাপড়, গন্ধযুক্ত ঘর বা অপরিষ্কার কাপড় ত্বকে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা মেঝেতে খেলে, বিছানায় বেশি সময় কাটায় এবং অনেক সময় হাত-মুখে ধুলো বা জীবাণু লেগে যেতে পারে।

সমাধান শুরু হতে পারে খুব সাধারণ কিছু অভ্যাস দিয়ে। ঘর নিয়মিত ঝাড়ামোছা করা, ধুলো কমানো, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার পরিষ্কার রাখা, পর্দা ধোয়া, ভেজা কাপড় জমিয়ে না রাখা, জানালা খুলে বাতাস চলাচল করানো এবং গন্ধ বা আর্দ্রতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। একই সঙ্গে কোনো জায়গায় ফাঙ্গাস বা কালচে ছোপ দেখা গেলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে হবে।

স্বাস্থ্যকর ঘর তৈরি করা একদিনের কাজ নয়, এটি নিয়মিত অভ্যাস। কাশি, র‍্যাশ বা অ্যালার্জিকে শুধু শরীরের সমস্যা হিসেবে না দেখে পরিবেশের সঙ্গেও মিলিয়ে দেখুন। কারণ অনেক সময় শরীর আমাদের আগেই সতর্ক করে দেয়, শুধু আমরা সেই সংকেত বুঝতে দেরি করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here