সোমবার বিকেলে ইরান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে রুখে দেওয়া সম্ভব হলেও একটির আঘাতে ফুজাইরা তেল শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার বিকেল ৪টা ৫৯ মিনিটে আমিরাতের বাসিন্দাদের মোবাইলে প্রথম জরুরি সতর্কতা সংকেত পাঠানো হয়। এর কিছু সময় পর পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানানো হলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবারও দ্বিতীয় দফায় মিসাইল হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তাদের নৌবাহিনী সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিচ্ছে। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন ফ্রিগেটে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজ আক্রান্ত হয়নি।
হরমুজ প্রণালীর এই অস্থিরতার মাঝেই আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনক-এর একটি ট্যাংকার ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। দুটি ড্রোন দিয়ে চালানো ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও আরব আমিরাত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আজ থেকে শুরু হয়েছে।
বর্তমানে এই অঞ্চলের আকাশপথে কিছুটা বিধিনিষেধ থাকলেও দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

