টানটান উত্তেজনা ভবানীপুরের ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে। সোমবার দুপুরে লর্ড সিনহা রোডের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পৌঁছোতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। তৃণমূলনেত্রীর গাড়ি চত্বরে প্রবেশ করতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।
মমতা পৌঁছোনোর আগে থেকেই ওই এলাকা উত্তপ্ত ছিল। গণনাকেন্দ্রের অদূরে একটি পেট্রল পাম্পে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একটি জমায়েত ঘিরে গোলমালের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের পুলিশ সরিয়ে দিতে গেলে বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছোলে তৃণমূলের জমায়েতস্থলে ঢুকে চেয়ার ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছোনোর পর বিক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়লে তড়িঘড়ি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা বিক্ষোভকারী বিজেপি সমর্থকদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এদিকে, গণনার ট্রেন্ড নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ২০ রাউন্ডের মধ্যে ১২ রাউন্ড শেষে কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার কখনও শুভেন্দু অধিকারী ব্যবধান কমাচ্ছেন। হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের প্রার্থী ও এজেন্টদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই জয়ের প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গণনাকেন্দ্র ঘিরে এখনও কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে।

