যেসব কারণে ফলপ্রসূ হচ্ছে না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা

0
যেসব কারণে ফলপ্রসূ হচ্ছে না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন এক সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো চালু আছে। তা সত্ত্বেও প্রায় তিন সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

দেশ দু’টির মধ্যকার পাল্টাপাল্টি এবং ভিন্ন চাহিদার কারণে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা এক গভীর অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে বলে মনে করছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গণমাধ্যম বিষয়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। 

শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যকার পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তারা এখনো আগের অবস্থানেই স্থির হয়ে আছে।

অধ্যাপক এলমাসরি উল্লেখ করেন, চলমান সংকট নিরসনে ইরান তাদের পক্ষ থেকে ১০টি দাবির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে ১৫টি দাবির তালিকা। এই দু’টি তালিকা যখন পাশাপাশি রেখে তুলনা করা হয়, তখন খুব সহজেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে দুই দেশের চাওয়া ও লক্ষ্যের মধ্যে একটি বিশাল দূরত্ব রয়েছে। আর এই কারণেই বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়াটা কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়।

তিনি আরও জানান, এই সংকটের পেছনে আরেকটি বড় সমস্যা হলো মার্কিন প্রশাসনের একটি ভুল ধারণা। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে যে মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান খুব দ্রুতই তেল মজুত সংক্রান্ত এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে। 

তবে এলমাসরির মতে, বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও তেমন নয়। ইরান এরই মধ্যে সংকট মোকাবিলার জন্য কিছু বিকল্প পথ বা কৌশল বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যার মাধ্যমে তারা আরও বেশ কিছুটা সময় পার করে দিতে পারবে।

সব মিলিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এই ভুল ধারণাই আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করছে যে ইরান চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে এবং এই অবস্থায় তাদের ওপর আরও কিছুটা চাপ প্রয়োগ করলেই ইরান যেকোনো দিন পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে। এই ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পথ বন্ধ থাকায় জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেহরানের উপর চাপ সৃষ্টিতে পারস্য উপসাগরে গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ আরোপ করে। যার ফলে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়ে থাকে। হরমুজ বন্ধ থাকায় জ্বালানি বিশ্ব বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। 

সূত্র : আল-জাজিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here