দূর থেকে প্রথম দেখায় মনে হবে—গাছের ডালে কেউ যেন ঝুলিয়ে রেখেছে অড়বরই, আমলকি কিংবা কাউফল। কিন্তু কাছে গেলে ধরা পড়ে ভিন্ন এক চমক—এটি আসলে বেঞ্জামিন বট, যার বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস বেঞ্জামিনা। মোরেসি পরিবারের এই চিরসবুজ গাছটি অনেকের কাছে ঝিরি বট নামেও পরিচিত, আর ইংরেজিতে বলা হয় ‘উইপিং ফিগ’।
বিচিত্র ফলধারী এই গাছটির দেখা মিলেছে রংপুর নগরের মেডিকেল মোড়সংলগ্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের বাস্কেটবল কোর্টের পাশে। অচেনা ফলের মতো দেখতে এর ছোট ছোট হলুদাভ ফল সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে।
গাছটি নিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্নার সঙ্গে। তিনি জানান, গাছটির পাতা ও ডালপালা বকুল গাছের মতো নিচের দিকে ঝুঁকে থাকে, যা একে আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বেঞ্জামিন বট মূলত শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে বহুল পরিচিত। এটি বাগান বা টবে লাগানো যায় এবং ঘরের ভেতরে বা বাইরে সমানভাবে মানিয়ে নেয়। পাশাপাশি এটি পাখি ও ছোট প্রাণীর জন্য খাদ্য ও আশ্রয় হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্নার মতে, দেশের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় এই গাছের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকারের ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অ্যাভিনিউ ট্রি হিসেবে বেঞ্জামিন বটকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শহরের সড়ক ও আইল্যান্ডগুলো আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে। পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করবেন এর অনন্য রূপ।

