চার্জিং কেবল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন একটি প্রযুক্তি, যাকে আমরা সাধারণত গুরুত্ব দিই না—যতক্ষণ না এটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে যায়। অথচ সামান্য যত্ন নিলেই একটি কেবলের আয়ু অনেক বাড়ানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লাইফ সাইকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল পেক্ট তার গবেষণাগারে নিয়মিত চার্জিং কেবল নিয়ে পরীক্ষা করেন। তিনি কেবল ভাঙা, টানা, অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে এর স্থায়িত্ব পরীক্ষা করেন। তার ভাষায়, ‘আমরা যেন ইলেকট্রনিক্সের মর্গ।’
কোথায় বেশি নষ্ট হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জিং কেবল সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয় প্লাগের গোড়ার অংশে। কারণ ব্যবহারের সময় এই জায়গাটিতেই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। বারবার বাঁকানো বা টান পড়ার ফলে ভেতরের ধাতব তার দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একসময় ছিঁড়ে যায়।
যেসব অভ্যাস কেবল নষ্ট করে
তার ধরে টেনে খোলা: অনেকেই প্লাগ না ধরে তার টেনে খুলেন। এতে সংযোগস্থলে চাপ পড়ে।
অতিরিক্ত টান: ছোট কেবল দিয়ে দূরের সকেটে ব্যবহার করলে কেবল টানটান হয়ে যায়।
বাঁকিয়ে ব্যবহার: শুয়ে ফোন ব্যবহার করার সময় কেবল বাঁকিয়ে রাখা খুব ক্ষতিকর।
চাপের মধ্যে রাখা: গাড়িতে চার্জে রেখে কেবল চাপে থাকলে দ্রুত ক্ষতি হয়।
পেঁচিয়ে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকেই মনে করেন কেবল কীভাবে পেঁচানো হচ্ছে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢিলেঢালা করে রাখলে সাধারণত সমস্যা হয় না। মূল বিষয় হলো—অতিরিক্ত চাপ বা বাঁক এড়ানো।
ভালো কেবল কেন জরুরি
সস্তা কেবল দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই ভালো মানের কেবল কেনা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক। বিশেষ করে নাইলন দিয়ে মোড়ানো (ব্রেইডেড) কেবল তুলনামূলক বেশি টেকসই।
কীভাবে আয়ু বাড়াবেন
- প্লাগ ধরে খুলুন, তার ধরে নয়
- ব্যবহারকালে কেবল বাঁকাবেন না
- অযথা টানটান করে ব্যবহার করবেন না
- ব্যবহার শেষে ঢিলেঢালা করে রাখুন
চার্জিং কেবল ছোট একটি জিনিস হলেও এর সঠিক ব্যবহার আপনার খরচ কমাতে পারে এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্যও কমায়। তাই কেবল ব্যবহারে একটু সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বড় সমাধান।

