মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল শিল্প ক্রমেই গভীর সংকটে পড়ছে। একদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে তেহরান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধে নিজস্ব তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদিত তেল বাইরে পাঠানোর সুযোগ না থাকায় এবং দেশে সংরক্ষণের জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে আসায় ইরানকে শিগগিরই বড় মাত্রায় উৎপাদন কমাতে বা কিছু তেলকূপ পুরোপুরি বন্ধ করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের তেল সংরক্ষণ ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। একবার পুরোনো কূপগুলো বন্ধ হলে সেগুলো আবার চালু করা কঠিন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অসম্ভবও হতে পারে, যা ইরানের ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পরিস্থিতি এড়াতে ইতোমধ্যে ইরান কিছু কূপে উৎপাদন ধীর করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগ সমুদ্রপথে ইরানি তেল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এশিয়ায় অন্তত দুটি এমন ট্যাংকার জব্দ করেছে। ট্যাংকারগুলো ইরানি তেল বহন করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস থেকে কার্যত বঞ্চিত হচ্ছে ইরানের অর্থনীতি।
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করত, যার অর্ধেকের বেশি ব্যবহৃত হতো দেশের অভ্যন্তরে। এখন খার্গ দ্বীপসহ প্রধান রপ্তানি টার্মিনালে তেল জমার গতি কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিছু তেল সমুদ্রে নোঙর করা ট্যাংকারে সংরক্ষণ করা হলেও সেই সামর্থ্য খুবই সীমিত।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও প্রভাব পড়ছে। জেট ফুয়েল সংকট, পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু ইরানের নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

