রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ইসলামপুরের বেলবাড়ি এলাকায় মূল সড়কের ধারে একটি অদ্ভুত ফুল দেখতে শত শত দর্শনার্থীর ভিড় জমেছে। ফুলটি থেকে বের হচ্ছে পচা মাংসের মতো তীব্র দুর্গন্ধ। অনেকেই বুঝতে পারছেন না—এটি আসলে কোনো ফুল, নাকি অন্য কিছু।
স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে অদূরে অবস্থিত বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্নার কাছে যান। তিনি ফুলটি দেখে নিশ্চিত করেন, এটি ওলকচুর ফুল।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৌতূহলী মানুষজন ফুলটি ঘিরে দাঁড়িয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। সাধারণত ফুল মানেই সুগন্ধ—এমন ধারণা সবার মধ্যে থাকলেও, এই ফুলটি তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এটি কোনো সুগন্ধ ছড়ায় না; বরং মৃত প্রাণীর পচা মাংসের মতো দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা অনেকের কাছেই ভীতিকর মনে হয়।
কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, ওলকচুর ফুল দেখতে অনেকটা বিশ্বের বৃহত্তম ফুল র্যাফলেশিয়ার মতো। যদি ৩–৪ বছর ধরে মাটির নিচ থেকে ওল তোলা না হয়, তখন এ ধরনের ফুল ফুটে। এই ফুল থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়, যা মূলত পচা মাংসের মতো। সাধারণত সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত গন্ধ বেশি থাকে, আর সকালে মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় ফুলের চারপাশে ভিড় করে। ফুলটির গঠন অনেকটা উল্টো করে ধরা ঘণ্টার মতো।
ওলকচু সাধারণত এর মাটির নিচের কন্দের জন্য পরিচিত হলেও, এর ফুল অত্যন্ত বিচিত্র ও দৃষ্টিনন্দন। ফুলটি আকারে বেশ বড় এবং সাধারণত গাঢ় বেগুনি বা কালচে রঙের হয়। এটি প্রায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফুলের মাঝখানে একটি লম্বা দণ্ড থাকে, যা একটি আবরণ বা মোড়ক দ্বারা ঘেরা থাকে, বলেন তিনি।
আবিদ করিম মুন্না আরও জানান, এই ফুলে তীব্র দুর্গন্ধ থাকার কারণেই বিভিন্ন পোকামাকড় এতে আকৃষ্ট হয়, যা পরাগায়নে সহায়তা করে। সাধারণত গাছ লাগানোর ২–৩ বছর পর এই ফুল ফোটে। তবে চাষের সময় নিয়মিত কন্দ তুলে ফেললে সহজে ফুল দেখা যায় না। দেখতে অদ্ভুত ও দুর্গন্ধযুক্ত হলেও, ওলকচুর ফুল খাওয়া যায়। এর গর্ভদণ্ড ফেলে দিয়ে ফুলটি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে বড় মাছের মাথা বা আলুর সঙ্গে রান্না করা হয়, যা বেশ সুস্বাদু। এছাড়া এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সহায়ক।
তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই ওলকচুর চাষ হয়। পেটের সমস্যা, ফোড়া, হাঁপানি ও বমিভাব কমাতে এটি উপকারী। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও ওল বেশ উপকারী, কারণ এতে অ্যালানটইন নামক একটি প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে।

