স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগে হুয়েস্কার বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর প্রতিপক্ষ অধিনায়কের মুখে সজোরে ঘুসি মারেন রিয়াল সারাগোসার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদ। স্প্যানিশ ফুটবলে এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর আন্দ্রাদাকে এখন দীর্ঘমেয়াদী ও ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের এই ম্যাচটি অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ের কারণে আগে থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। খেলার প্রথমার্ধে পেনাল্টি ঠেকিয়ে সারাগোসাকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদ। তবে ম্যাচের শেষ দিকে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। দলের ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার মুহূর্তে হুয়েস্কার এক ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।
মাঠ ছাড়ার আগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে হুয়েস্কা অধিনায়ক পুলিদোর দিকে তেড়ে যান আন্দ্রাদা। এরপর তার মুখে সজোরে আঘাত করেন। এই ঘটনায় মাঠের ভেতর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। আন্দ্রাদার ঘুসিতে পুলিদোর মুখ ফুলে যায়।
এই ঘটনার পর চারদিকে সমালোচনার ঝড় বইছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন রিয়াল সারাগোসার অধিনায়ক ফ্রাঞ্চো সেরানো। তিনি বলেন, সারাগোসা এই ধরনের আচরণ সমর্থন করে না। যা ঘটেছে তার জন্য আমরা লজ্জিত।
এই ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সারাগোসা কোচ ডেভিড নাভারোও।
এদিকে, জনরোষের মুখে পড়ে মুখ খুলেছেন খোদ আন্দ্রাদা। নিজের কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যা ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এটি ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমার এমনটা করা উচিত হয়নি।
নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এর আগে তিনি কখনোই এমন উগ্র আচরণ করেননি। স্রেফ মুহূর্তের উত্তেজনায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর গুঞ্জন, সারাগোসা কর্তৃপক্ষ হয়তো এই মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে আন্দ্রাদাকে আর মাঠে নামাবে না, এমনকি তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও বাতিল হতে পারে। লিগ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দ্রাদাকে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা ও লম্বা সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে। ফুটবল বিশ্বে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের এমন আচরণকে কোনোভাবেই সহজভাবে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

